ফলন কম বক্সায়, দাম বাড়তে পারে কমলার

বক্সা পাহাড়ের লালবাংলো, তাঁসিগাঁও এলাকায় এ বার কমলালেবুর তেমন ফলন হয়নি। তাতে যেমন সমস্যায় পড়েছেন বাগান মালিক থেকে শ্রমিকেরা। তেমনই, বাজারে এ বার কমলালেবুর দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

নারায়ণ দে

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৪৯
Share:

ফল নেই কমলালেবু গাছে। নিজস্ব চিত্র।

বক্সা পাহাড়ের লালবাংলো, তাঁসিগাঁও এলাকায় এ বার কমলালেবুর তেমন ফলন হয়নি। তাতে যেমন সমস্যায় পড়েছেন বাগান মালিক থেকে শ্রমিকেরা। তেমনই, বাজারে এ বার কমলালেবুর দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

আলিপুরদুয়ার জেলার দায়িত্বে থাকা জলপাইগুড়ি উদ্যনপালন বিভাগের আধিকারিক শুভাশিস গিরি জানান, ডুয়ার্স সংলগ্ন আলিপুরদুয়ার এলাকায় শীতে কমলা লেবুর যে বাজার তার তিরিশ শতাংশ বক্সার কমলা লেবুর হাতেই থাকে। তাই বক্সায় কমলা লেবু উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়বে। তবে লাল বাংলো এলাকায় যে এ বার ফলন মার খেয়েছে, তার খবর তাঁদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন শুভাশিসবাবু।

কয়েক বছর ধরেই বক্সা পাহাড়ের কমলা লেবুর ফলন কম হলেও উদ্যান পালন বিভাগের তরফে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কোনও উদ্যোগ হয়নি বলে অভিযোগ। কমলা লেবুর ফলন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে পাওয়া যায়নি বলে বলে অভিযোগ এলাকার বাগান মালিকদের। বক্সা পাহাড়ের শুধু কমলা লেবু নয়, মার খেয়েছে আদা চাষও। তবু এলাকায় উদ্যান পালন বিভাগের আধিকারিক বা কর্মীদের দেখা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। অভিযোগ, দুর্গম বক্সা পাহাড়ে এলাকার বাসিন্দাদের বিষয় খোঁজ খবর রাখেন না দফতরের আধিকারিকরা।

Advertisement

শুভাশিসবাবুর কথায়, “লাল বাংলোয় এলাকায় কমলা লেবুর ফলন যে হয়নি, তা জানা নেই। তবে আমরা এ বছর চুনাভাটি ও আদমায় কমলা লেবুর চারা বিলি করেছি।” উদ্যান পালন বিভাগের আলিপুরদুয়ার মহকুমার আধিকারিক সন্দীপ মোহন্তও বলেন, “মাস তিনেক হল আলিপুরদুয়ারে এসেছি। বিষয়টি কেউ জানাননি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে ১৫ বছরের বেশি বয়স হলে কমলা লেবু গাছের ফলন কমতে শুরু করে।’’ তিনি জানান, তাঁরা চুনাভাটি ও আদমা এলাকায় ২০ হেক্টর জায়গায় নতুন করে কমলা লেবুর বাগান তৈরি করছেন।

বক্সা পাহাড়ের লালবাংলো গ্রামে প্রেমা ডুকপা থেলো ডুকপাদের কমলা লেবু বাগানে প্রায় ২০০ গাছ রয়েছে। বাগানে গিয়ে দেখা গেলে একটি গাছেও কমলা লেবু নেই। তাঁসিগাঁওয়ের বাসিন্দা চেন্দে ডুকপা বলেন, “আমার বাগানে আগে অনেক গাছ ছিল। এখন কমতে কমতে ৩০-৪০টায় দাঁড়িয়েছে। গত বছর কিছু কমলা লেবুর দেখা মিললেও এ বছর একটাও কমলা লেবু হয়নি।’’

Advertisement

তিনি জানান, গত বছর অন্য বাগান মালিকদের খাতা দেখার কাজ করেছি। এলাকার ৫-৬টি কমলা বাগানে গড়ে মালিকরা ২০ হাজার টাকা করে লাভ করেছিলেন। নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে এলাকার বাসিন্দারা কমলা লেবু বোঝই ঝুড়ি সন্তলা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা করে মজুরি পেয়েছিলেন। এ বছর কমলা বাগানে ফলন না হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছে।

লাল বাংলোর এক কমলা লেবু বাগানের মালিক নাদো ডুকপা জানান, এ বছর কমলা লেবু গাছ গুলিতে ফুল এসেছিল কম। তাও ঝড়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘উদ্যান পালন বিভাগের অফিস কোথায় জানি না। এখানে কোনও কর্মী বা আধিকারিক আসেন না। শুধু কমলা লেবু নুয় আদা চাষ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দফতর থেকে নতুন চারাগাছ ও পরামর্শ না দিলে আমরা সমস্যায় পড়ব।’’ আলিপুরদুয়ারের জেলাপরিষদ সভাধিপতি মোহনশর্মা অবশ্য জানিয়েছেন, কেন কমলা বাগানের এই অবস্থা তা খোঁজ নেবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement