বিডিও নিগ্রহে দু’দিনেও অধরা অভিযুক্ত

মালদহের কালিয়াচক ২ ব্লকের বিডিও মামুন আখতারকে মারধর ও হেনস্থায় অভিযুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে ৪৮ ঘণ্টার পরেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতার হননি বাকি দু’জন অভিযুক্তও। তাই পুলিশের ভুমিকা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৫৪
Share:

মালদহের কালিয়াচক ২ ব্লকের বিডিও মামুন আখতারকে মারধর ও হেনস্থায় অভিযুক্ত স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে ৪৮ ঘণ্টার পরেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতার হননি বাকি দু’জন অভিযুক্তও। তাই পুলিশের ভুমিকা নিয়েই ক্ষোভ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।

Advertisement

কংগ্রেস অবশ্য দাবি করেছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন ওই পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। কংগ্রেসের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলেন বিডিওর কাছে। তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জন প্রতিনিধিদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বিডিওকে মারধর এবং হেনস্থার ঘটনা তাঁরা সমর্থন করেন না। তাঁদের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে কংগ্রেস ওই অভিযুক্তদের পাশে থাকব না। সাবিনা বলেন, ‘‘কিন্তু এখানে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কেউ যদি রাজনীতি করেন, আমাদের দলের নেতা কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেন, তা হলে আমরা বসে থাকব না। গণতান্ত্রিক প্রদ্বতিতে আন্দোলন করব।’’ তবে রাজ্যের উদ্যান পালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। পুলিশ ও প্রশাসন আইন অনুযায়ী কাজ করছে। এখানে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই।’’

গত, বুধবার সন্ধ্যে সাড়ে ছটা নাগাদ কালিয়াচক ২ ব্লকের বিডিওর অফিসে যান ওই ব্লকের বাঙিটোলা গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান চন্দনা মন্ডলের স্বামী তথা কংগ্রেস নেতা দীপক মন্ডল সহ তিন জন। তাঁরা তিন জনই এলাকায় ঠিকাদারের কাজ করেন। তারপরে ওই তিন কংগ্রেস নেতা বিডিও মামুন আখতারকে তাঁর দফতরের মধ্যেই মারধর ও হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁর মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে বিডিও উপরে হেনস্থা চালান তাঁরা বলে অভিযোগ। পরে দফতরের মধ্যে হইচই শুনে স্থানীয়েরা ছুটে গেলে একে একে গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতারা।

Advertisement

ঘটনার পরিপেক্ষিতে ওই দিনই রাতে বিডিও মামুন আখতার তিন কংগ্রেস কর্মীর নামে থাকায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর মোথাবাড়ির ফাঁড়ির পুলিশ দফায় দফায় তদন্তে যায়। পুলিশের তৎপরতা দেখে কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, তাঁদের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজের বরাত পাওয়া নিয়ে ওই তিন কংগ্রেস নেতা বিডিওর সঙ্গে বচসা এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, বাঙিটোলা গ্রামপঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ইন্দ্রিরা আবাসের দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে ব্লক প্রশাসন। এ ছাড়া ওই পঞ্চায়েতে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। যার জন্য এদিন হামলা বলে মত প্রশাসনিক মহেলর একাংশের।

তবে অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় প্রশাসনিক মহলেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দফতরের মধ্যে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিককে মারধর ও হেনস্থা করা হলেও এক জনকেও গ্রেফতার করতে পারল না পুলিশ। যদিও মামুন কেবল বলেন, ‘‘যা বলার আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলবেন।’’ এই বিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস এক্সজিকিউটিভ অফিসার অ্যাসোসিয়শনের মালদহ ইউনিটের সভাপতি তথা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক দেবতোষ মন্ডল বলেন, ‘‘পুলিশকে পুরো ঘটনাটি জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে।’’ মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement