আত্রেয়ীর জলে প্লাবিত চাষের জমি। ছবি: অমিত মোহান্ত।
ভারী বৃষ্টি নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার আত্রেয়ীর জল বিপদসীমা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে। এ দিন বালুরঘাটের কাছে দেখা গিয়েছে, আত্রেয়ী বিপদসীমার চেয়ে মোটে হাফ সেন্টিমিটার নীচে পৌঁছে গিয়েছে। অথচ গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু বালুরঘাটই নয়, গোটা জেলায় গড়ে মাত্র ৪.৮২ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কেন এই অবস্থা? সেচ দফতর জানাচ্ছে, এ বছর আত্রেয়ীর জল বাড়ছে মূলত বাংলাদেশে একটানা বর্ষণের জন্য। কী ভাবে? আত্রেয়ী নদী বাংলাদেশ থেকে এ পাড়ে ঢুকে দক্ষিণ দিনাজপুরের মধ্যে দিয়ে বয়ে আবার বাংলাদেশে ঢুকেছে। সেখানে মোহনপুরে আত্রেয়ীর জল নিয়ন্ত্রণে নদী বরাবর রাবার বাঁধ তৈরি হয়েছে। এই বাঁধের ফলে গ্রীষ্মে বালুরঘাটের দিকে আত্রেয়ীর জল শুকিয়ে যায় বলে দক্ষিণ দিনাজপুরের কৃষকমহলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাতেই গরমের দিনে নদীর বুকে চড়া পড়ে যায় বলেও তাদের দাবি। এখন ও পার থেকে জল ধেয়ে আসছে। ফলে নদী ও তার খাঁড়িগুলিতে জল বেড়ে যাচ্ছে চট করে। বালুরঘাটের খাসপুর, পাগলীগঞ্জ ও পতিরাম এলাকায় দুর্বল নদীবাঁধের উপর জলের চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জেলা সেচ দফতরের নির্বাহী আধিকারিক সুনীল ঠাকুর জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির দিক নজর রেখে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
বিপদ অবশ্য গঙ্গারামপুরে পুণর্ভবা এবং বংশীহারিতে টাঙন নদীতেও রয়েছে। পুণর্ভবায় জল বিপদসীমার থেকে মোটে দেড় সেন্টিমিটার নীচে রয়েছে, টাঙনে এক সেন্টিমিটার নীচে। বিভাগীয় এক অফিসারের কথায়, টাঙনের জল বৃষ্টি না হলে কমে যেতে পারে। কিন্তু আত্রেয়ীর ক্ষেত্রে বিষয়টা তা নয়। ফলে যে কোনও সময় জল নদীবাঁধ উপচে জনপদ প্লাবিত করতে পারে বলে বালুরঘাটের অনেকেই এখন আশঙ্কা করছেন।