ভুট্টা শুকোতে গিয়ে টান পড়েছে পথেই

কোথাও রাস্তার একপাশ ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, কোথাও বা গাছের গুঁড়ি ফেলে আড়াল করা হয়েছে রাস্তার একাংশ। ইট আর গাছের গুঁড়ির ঘেরাটোপে এভাবে রাস্তা ‘দখল’ করে চলছে ভুট্টা শুকোনোর কাজ। আর তারই জেরে দিনভর রাস্তা জুড়ে চলছে যানজট। উত্তর দিনাজপুরের ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়কের একাংশে ভুট্টা শুকোনো এবং তার জেরে যানজট চললেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

Advertisement

গৌর আচার্য

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০১৪ ০১:০৫
Share:

পথের হাল এমনই। তরুণ দেবনাথের তোলা ছবি।

কোথাও রাস্তার একপাশ ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, কোথাও বা গাছের গুঁড়ি ফেলে আড়াল করা হয়েছে রাস্তার একাংশ। ইট আর গাছের গুঁড়ির ঘেরাটোপে এভাবে রাস্তা ‘দখল’ করে চলছে ভুট্টা শুকোনোর কাজ। আর তারই জেরে দিনভর রাস্তা জুড়ে চলছে যানজট। উত্তর দিনাজপুরের ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়কের একাংশে ভুট্টা শুকোনো এবং তার জেরে যানজট চললেও প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।

Advertisement

গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার করণদিঘি, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়া ব্লকের ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়কে দিনভর যানজট লেগেই আছে। দুর্ঘটনাও একরকম নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। কোনও কারণে রায়গঞ্জ থেকে ডালখোলা পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজট তৈরি হলে ‘বেঙ্গল টু বেঙ্গল’ সড়ক দিয়েই শিলিগুড়ি সহ উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যেতে হয়। সেই সঙ্গে, ওই রাস্তা দিয়েই উত্তর দিনাজপুরের তিনটি ব্লকের বিভিন্ন রুটে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার একাংশ দখল করে ভুট্টা শুকানোর কাজ হলেও প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিত্যযাত্রীরা।

করণদিঘি ব্লকের বোতলবাড়ি মোড় থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার, চাকুলিয়া থেকে কিসানগঞ্জ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং কানকি থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তায় কিছুটা অন্তর ভুট্টা শুকোতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ওই রাস্তাগুলি করণদিঘি, চাকুলিয়া ও গোয়ালপোখর ব্লকের রসাখোয়া, আলতাপুর, রুদেল, গোয়াগাঁও, শকুন্তলা, হাসিমারা, জনতাহাট, বিদ্যানন্দপুর, চাকুলিয়া সদর, বেলন, নিজামপুর ও কানকি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম। অভিযোগ, প্রায় সর্বত্রই ইঁট ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তার একপাশ বন্ধ করে ভুট্টা শুকানোর কাজ চলছে। ফলে, রাস্তার একপাশ দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্লাবন প্রামাণিকের অভিযোগ, “রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে চারঘণ্টা যানজট থাকছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও।” পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

যদিও বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন কৃষকদের একাংশ। গোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মনি বর্মন ও শকুন্তলা এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর পাসোয়ানরা দাবি করেন, “ভুট্টা ওঠার পর প্রতিবছরই মে ও জুন মাস জুড়ে রাস্তার উপর সেগুলি শুকোনোর কাজ করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেক কর্তারাই তো গাড়িতে চেপে এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন। তাঁরা তো কখনও নিষেধ করেননি!”

ইসলামপুরের মহকুমাশাসক নারায়ণচন্দ্র বিশ্বাস এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুবিমল পাল দু’জনেই অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে, পদক্ষেপ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement