ভুল করে খুন কি না, শুরু হল তদন্ত

ভুল করে খুন করা হয়েছে বংশীহারির বাসিন্দা মোফিদুল হোসেনকে—এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। শনিবার বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ রাস্তা থেকে মোফিদুলকে একটি ছোট ভ্যানে তুলে নিয়ে খুন করেন কয়েকজন দুষ্কৃতী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৫১
Share:

ভুল করে খুন করা হয়েছে বংশীহারির বাসিন্দা মোফিদুল হোসেনকে—এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।

Advertisement

শনিবার বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ রাস্তা থেকে মোফিদুলকে একটি ছোট ভ্যানে তুলে নিয়ে খুন করেন কয়েকজন দুষ্কৃতী। গাড়ি চালকতের তৎপরতায় দুষ্কৃতীদের একজন শম্ভুকুমার ঠাকুরকে পুলিশ গ্রেফতারও করতে পেরেছে। শম্ভুকুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ জানতে পেরেছে, মোফিদুলকে আসলে ভুল করে অপহরণ করে খুন করা হয়। মোফিদুল সে দিন মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টি পাঠাবেন বলে বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে আচমকা তাঁকে গাড়িতে টেনে তুলে নেন কয়েকজন দুষ্কৃতী। গাড়িতেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাঁকে।

কেন মোফিদুলকে খুন করা হল, তা নিয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে দুই জেলার মানুষ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। মৃতের এক আত্মীয় সলিম উদ্দিন শেখ বলেন, ‘‘মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে মিষ্টি পাঠাবেন বলে বাজারে গিয়েছিলেন মোফিদুল। ফেরার সময় গাড়িতে তুলে দুষ্কৃতীরা খুন করে। আমরা রাস্তার মধ্যে সাইকেল ও মিষ্টির প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখি। পরে জানতে পারি তাঁকে খুন করা হয়েছে। পরে আমরা জানতে পারি অপহরণের ছক ছিল অন্য জনকে। ভুল করে তুলে নেওয়া হয় মোফিদুলকে। ভুল করে অপরহরণ করলেও, প্রাণে না মেরে ছেড়ে দিল আজ এদিন আমাদের দেখতে হতো না।’’

Advertisement

পুলিশের দাবি, শম্ভুকুমারের কাছ থেকেই তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, অপহরণ করার কথা ছিল বংশীহারির যদিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবজাল শেখকে। ভুলবশত তুলে নেওয়া হয় নিরীহ মোফিদুলকে। আবজালদের পরিবারের সঙ্গে টাকা নিয়ে গোলমাল ছিল এই ঘটনায় ধৃত শম্ভুকুমার ঠাকুরের। অভিযোগ, আবজালের ভাইপো দৌলত তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল, তাই আবজালকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছিল শম্ভুকুমার। এর জন্য কিছু ভাড়াটে খুনিদেরও সঙ্গে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শম্ভুকুমার ছাড়াও এই ঘটনায় আরও ছয় জন রয়েছে। তারা এখনও অধরা।

জেল পুলিশ সুপার শীশরাম ঝাঝারিয়া অবশ্য বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে ধৃত শম্ভুকুমার ঠাকুর ওই কথা বললেও তা কতটা সত্যি তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ধৃতদের জেরা করা হবে।’’ এদিন খুনে অভিযুক্ত ধৃত শম্ভুকুমার ঠাকুর এবং গাড়ির চালক আব্দুল রহিমকে বুনিয়াদপুরের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত তুলে ১১ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়। বিচারক তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নির্দেশ দেন। এদিন বিকেলে ধৃতদের জেরা করতে বালুরঘাট থেকে জেলা পুলিশ সুপার শীশরাম ঝাঝারিয়া বংশীহারি যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোফিদুল হোসেনের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারি থানার গাঙুরিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের যদিপুর গ্রামে। তিনি বছরের অধিকাংশ সময়ই ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। আর বাড়িতে থাকলে দিনমজুরি করেন। তাঁর দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট ছেলে মাসরেকুল হোসেন দৌলতপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। তাঁর স্ত্রী সুলতানা বিবিও মাঝে মাঝে দিনমজুরি করেন। সপ্তাহ দেড়েক আগে মহরম উপলক্ষে দিল্লি থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। গ্রামে খুব শান্ত স্বভাবের বলে পরিচিত।

শনিবার বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ এলাকারই ন্যাংড়া মোড় বাজারে মিষ্টি কিনতে গিয়েছিলেন সাইকেল নিয়ে। তারপরে মালদহ-বালুরঘাট রাজ্য সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মোফিদুল। বাড়ি থেকে বাজারের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। এদিন রাস্তা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্যেই খুন করে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাজিক গাড়িটি মালদহের মানিকচক থেকে চার জন এবং দৌলতপুর থেকে তিন জনকে নিয়ে বংশীহারির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। দৌলতপুরের কাছেই মোফিদুলকে অপহরণ করে গাড়ির মধ্যেই শ্বাসরোধ করে খুন করে।

মোফিদুলের ভাইপো কবলুদ্দিন মিঞা বলেন, ‘‘অন্যের জন্য মরতে হল কাকাকে। কাকার মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলেও একটি ছোট ছেলে রয়েছে। সে পড়াশুনা করছে। এখন তাঁদের সংসারের কী হবে বুঝতে পারছি না। আমরা চাই পুলিশ অপরাধীদের শাস্তি দিক। সেই সঙ্গে তাঁর পরিবারকে সাহায্য করা হোক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement