মদের আসরের প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধর

মাস খানেক আগে মালদহের ইংরেজবাজারের কাজিগ্রামে মদের আসরের প্রতিবাদ করে মদ্যপদের রোষের মুখে পড়েন এক মহিলা ও তাঁর ছেলে। ফের একই থানা এলাকার মহদিপুর গ্রামপঞ্চায়েতের কাঞ্চনটার গ্রামে শুক্রবার রাতে মদ্যপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আক্রান্ত হলেন এক পুরোহিতের পরিবার। ঘটনায় ওই পুরোহিত তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্র জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:০০
Share:

প্রহৃত রিনাদেবী। —নিজস্ব চিত্র।

মাস খানেক আগে মালদহের ইংরেজবাজারের কাজিগ্রামে মদের আসরের প্রতিবাদ করে মদ্যপদের রোষের মুখে পড়েন এক মহিলা ও তাঁর ছেলে। ফের একই থানা এলাকার মহদিপুর গ্রামপঞ্চায়েতের কাঞ্চনটার গ্রামে শুক্রবার রাতে মদ্যপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আক্রান্ত হলেন এক পুরোহিতের পরিবার। ঘটনায় ওই পুরোহিত তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্র জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ওই পুরোহিতের নাম রামপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তাঁর স্ত্রী রীণাদেবীর আঘাত গুরুতর। তাঁদের দুই ছেলের নাম প্রদীপ ও প্রণব। প্রণব মালদহ ইংরেজবাজারের মালঞ্চপল্লী হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। শনিবার দুপুরে ইংরেজবাজার থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন রামপ্রসাদবাবু। মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’

গত মাসে ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাড়ির সামনে মদের আসরের প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা। মহিলাকে বাঁচাতে গিয়ে মদ্যপদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর ছেলেও। থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল ইংরেজবাজার থানা এলাকায়। এ বারের ঘটনাস্থল মহদিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঞ্চনটার গ্রাম। পুরোহিত রামপ্রসাদ ভট্টাচার্য পুজো ছাড়াও নিজের জমিতে চাষ করে সংসার চালান। অভিযোগ, তাঁর প্রতিবেশি নন্দন সিংহের বাড়িতে প্রতিদিনই মদের আসর বসে। সেই আসরে যোগ দেন গ্রামের আরও বেশ করেকজন যুবক। সেই আসরে মদ্যপেরা একে অপরের উদ্দেশ্যে নানান অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিন্তু অশান্তির ভয়ে এতদিন কোনও প্রতিবাদ করেননি তাঁরা।

Advertisement

মালদহে আহত রামপ্রসাদ ভট্টাচার্য

কিন্তু শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কার্যত অতিষ্ঠ হয়েই প্রতিবাদ করেছিলেন রামপ্রসাদবাবু। আর এতেই রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। নন্দনের নেতৃত্বেও আরও চার যুবক বাঁশ, লাঠি নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। রামপ্রসাদ বাবুকে মারতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান স্ত্রী রিনাদেবী এবং দুই ছেলে প্রদীপ ও প্রণব। তাঁদেরকেও মারধর করে দুষ্কৃতীরা। প্রণবের মাথায় আঘাত লাগে। রিনাদেবীর ডান হাতে আঘাত লাগে। তাঁদের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। গন্ডগোলের মধ্যেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় মদ্যপ যুবকরা। আহত অবস্থায় চারজনকেই ভর্তি করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পরে রামপ্রসাদ বাবু ও তাঁর এক ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

নন্দন ও তাঁর ভাই দিপু সিংহ সহ মোট পাঁচজনের নামে থানাতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তেরা প্রত্যেকেই চাষের কাজ করে। এই বিষয়ে গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলের শান্তি সিংহ বলেন, ‘‘পুরোহিতের পরিবারের লোকেরা পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement