ভোট তো বটেই, এ বার মনোনয়নও সিসি ক্যামেরার নজরে। শিলিগু়ড়ি মহকুমা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পুরোটাই সিসিটিভি নজরদারির মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার থেকে খড়িবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া ব্লক অফিসে সিসিটিভি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নকশালবাড়িতেও ওই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাটিগাড়া ব্লক অফিসে বাইরের দিকে আগে থেকেই সিসিটিভি থাকায়, দফতরের ভিতরে মনোনয়ন দাখিলের ঘরে ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। দার্জিলিঙের জেলাশাসক তথা জেলার পঞ্চায়েত নিবার্চনী আধিকারিক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘নিবার্চন কমিশনের সমস্ত নির্দেশ মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার তথ্য রাখার জন্য এই ব্যবস্থা।’’ তবে ভোট নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠুভাবেই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলাশাসক।
নিবার্চন প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি’র নজরদারিতে কেন আনা হল?
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার মাসখানেক আগে থেকেই উত্তেজনার পারদ ধীরে ধীরে বাড়ছিল। কখনও মাটিগাড়ার বালাসন কলোনিতে, আবার কখনও শহর লাগোয়া তিনবাতি এলাকায়। শাসক, বিরোধীদের গোলমালে পুলিশকে একাধিক মামলাও করতে হয়েছে। আবার নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি বা খড়িবাড়িতে অভিযোগ-পাল্টা নানা অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দিয়েছে রাজ্য নিবার্চন কমিশন। আগামী ৩ অক্টোবর ভোট হলেও মনোনয়নের প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর অবধি। শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দফতরে মহকুমা পরিষদের মনোনয়ন এবং বাকি চারটি ব্লকে পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলবে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, নিবার্চন কমিশনের নির্দেশে মনোনয়ন দাখিল, স্ক্রুটিনি, প্রত্যাহার সব কিছু তথ্য রাখতে হবে। ভিডিওগ্রাফি করার কথাও বলা হয়েছে। এতে কোথাও কোনও গোলমাল বা সমস্যা হলে পরবর্তীতে ঠিক কি হয়েছিল তা যাতে দেখা যায়। কিন্তু ভিডিওগ্রাফি করানোর ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একে একজন বা দু’জন ফটোগ্রাফারকে নিয়োগ করা হলেও দফতরের সব জায়গায় সব সময় তাঁরা থাকতে পারবেন না। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি টানা তাঁদের পক্ষে ছবি তোলাও সম্ভব নয়। আবার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে, দফতরের মনোনয়ন দাখিলের ঘরে না হলেও দফতর চত্বরেও অনেক সময় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ছবি অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজনে সরকারি অফিসারদের জোগাড় করতে হয়।
জেলা প্রশাসনের কয়েকজন আবার অফিসারেরা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মজুরির ভিত্তিতে আবার ফটোগ্রাফারদের স্থানীয়ভাবেই নিয়োগ করা হয়। স্থানীয় লোক হওয়ায় তাঁরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের লোকজনেরই সাধারণত পরিচিত হন। সেখানে গোলমাল হলে তাঁকে ছবি না তুলতে দেওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। আবার গোলমাল হলে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। সে জায়গায় সিসিটিভি’র কোনও বিকল্প নেই।’’
নির্বাচনী দফতরের অফিসারেরা জানান, মূলত ব্লক অফিসগুলির মনোনয়ন দাখিলের নির্দিষ্ট ঘর, করিডর, চত্বর মিলিয়ে ৪-৫টি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দফতরের একটি ঘরে কন্ট্রোল রুম খুলে দিনভর তা রেকর্ডিং করা শুরু হয়েছে। কোনও সময় কিছু হলে তার পুরো রেকর্ডিং থেকে যাবে। নকশালবাড়িতে মনোনয়ন নির্দিষ্ট ঘরেও ভিডিও ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ভিডিওগ্রাফি সাময়িক বিষয়। ভোট মিটে গেলে তা শেষ হয়ে যাবে। সেখানে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ করে সিসিটিভি বসানো হলে তা স্থায়ীভাবে থেকেও যাবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়নপত্র তোলার কাজ শুরু হয়েছে।