প্লাস্টিক, জঞ্জালে নাজেহাল শিলিগুড়ি

রাস্তায় নোংরা, নাক চাপো দুর্গন্ধে

সাতসকালে বর্ধমান রোডের একটি মার্কেট কমপ্লেক্সের সামনে ছেলে-মেয়েদের স্কুলের বাসে ওঠাতে যান অনেকে। আর গিয়ে রোজই নাকে রুমাল চেপে থাকতে হয় তাঁদের। কচিকাঁচাদের তো গা গুলিয়ে ওঠে। রাস্তার পাশে নোংরা, আবর্জনার ভ্যাট উপচে পড়ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৬ ০২:২৯
Share:

সাতসকালে বর্ধমান রোডের একটি মার্কেট কমপ্লেক্সের সামনে ছেলে-মেয়েদের স্কুলের বাসে ওঠাতে যান অনেকে। আর গিয়ে রোজই নাকে রুমাল চেপে থাকতে হয় তাঁদের। কচিকাঁচাদের তো গা গুলিয়ে ওঠে। রাস্তার পাশে নোংরা, আবর্জনার ভ্যাট উপচে পড়ছে। বৃষ্টির জলে, কাদায় কার্যত নরক গোটা এলাকা।

Advertisement

মাত্র কয়েকশো মিটার এগোলেই বড় নার্সিংহোম। তার উল্টোদিকেও এক দশা। সেখানে দুটি বড় মাপের ভ্যাট। একই ছবি, শহরের বাবুপাড়ার জ্যোৎস্নাময়ী স্কুলের সামনে, কলেজপাড়ার কলেজের পিছনে, শিলিগুলি গার্লস স্কুলের মূল গেটের উল্টো দিকে বা দার্জিলিং মোড়ে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার তরফে পাড়ায় পাড়ায় নিকাশি নালা ও আবর্জনা সাফাই চলে। কিন্তু কম্প্যাক্টর দিয়ে ট্রাকে ময়লা তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেই এলাকা আরও বেশি নোংরা হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, সাফাইয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না বলেই অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

Advertisement

প্রায় সব ওয়ার্ডেই একই অবস্থা। এবং অভিযোগের আঙুল সাফাই কর্মীদের একাংশের দিকে। তাঁরাই নোংরা ঠিকঠাক সাফ করেন না বলে অভিযোগ। ফলে আরও দূষণ ছড়াচ্ছে। মশা, মাছির আঁতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে গোটা এলাকা। নিয়ম করে ভ্যাটগুলিকে সাফ করা, ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোরও বালাই নেই। শিলিগুড়িতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সাফাইয়ের ক্ষেত্রে পুরসভা ঠিক মতো নজর না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা। অনেকের বক্তব্য, এর অবস্থাও প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের মতো হয়ে যাচ্ছে!

নোংরা আর জঞ্জাল শুধু সকালে নয়, বেলা ১২টার পরেও দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, মহকুমা শাসকের বাড়ির সামনে, সুভাষপল্লি মোড় এলাকা, মিলনপল্লি সরকারি আবাসন— সর্বত্র। কোথাও আবার ভ্যাটের থেকে নোংরা জল রাস্তা ভাসাচ্ছে। প্লাস্টিক, পচা ফল, সবজি খাবার, কাজ, বোতালের ছড়াছড়ি।

Advertisement

বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সকাল থেকে ঠিকমতো শহর সাফাই হলে এই হাল হয় কী করে? বামফ্রন্ট পরিচালিত পুরসভার পরিষেবা নিয়ে এমনিতেই নানা সময়ে বিরোধীরা অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছেন। তৃণমূল তো বটেই, কংগ্রেসের অনেক কাউন্সিলরের দাবি, এই ধরনের পুর পরিষেবায় বোর্ডের ঠিকঠাক নজরদারিও নেই। তাই শহরের এমন হাল হচ্ছে। পুরসভায় কংগ্রেসের দলনেতা সুজয় ঘটক বলেন, ‘‘প্রতিদিন নোংরা নিতে গাড়ি আসছে না। শহরের পরিচ্ছন্নতার হাল খুব খারাপ।’’ আর বিরোধী দলনেতা, তৃণমূলের নান্টু পাল বলছেন, ‘‘শহরটা জঞ্জালগুড়িতে পরিণত হচ্ছে। আমরা নিজেরাই ওয়ার্ডগুলিতে লোকজন দিয়ে সাধ্যমতো সাফ করব।’’

পুরসভার কয়েক জন অফিসার আবার সাফাই কর্মীদের একাংশকে দায়ী করেছেন। তেমনিই, সকালে দফায় দফায় ভ্যাট সাফাইয়ের পর তা ফের নোংরা ফেলে ভরা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ। সাফাই গাড়িগুলিতে নজরদারির জন্য ‘জিপিএস’ পদ্ধতি চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, বড় শহরগুলিতে ভোরের আগেই সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়। শিলিগুড়িতে তা শুরু হয় অনেক পরে। কিছু এলাকায় রাতে বাণিজ্যিক এলাকা সাফ করা হয়। তবে তা যথেষ্ট নয়। মেয়র অশোক ভট্টাচার্য সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘‘ভ্যাট পরিষ্কারের জন্য শ্রমিক বাড়ানো হচ্ছে। ব্লিচিংও ছড়ানো হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement