সব্জির বাজার। ফাইল চিত্র।
হেমন্তের বাতাসে কেমন যেন আদুরে আমেজ। শীত এল বলে! বাজারেও এখন হরেক রকম চকচকে শাকসব্জির দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিট-গাজর, বিনস্ ও ক্যাপসিকাম দাম এখনও বেশ চড়া। এখন উত্তরবঙ্গের বাজারগুলিতে গড়পড়তা বিট ও গাজরের দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা। বিনস্ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।
শীত এলে মুখিয়ে থাকেন খাদ্য রসিকরা। ঘরে ও বাইরে ভেজিটেবল চপ, গাজরের হালুয়া, ক্যাপসিক্যাম শোভিত চাউমিন, চিলি চিকেন, চিকেন দো পেঁয়াজির মতো হরেক পদের স্বাদটাই যেন বদলে যায় এই মরসুমে। দক্ষিণভারতীয় খাবারেও স্বাদ বেড়ে যায় অনেকখানি। আবার এই সময়টা বিট-গাজরের দাম কমলে লাভের মুখ দেখেন হরেক রকম খাবার দোকান ও রেস্তোঁরার মালিকরা। শীতের সময়ে গাজর বা বিটের দাম কমে গেলে হালুয়া বা ভেজিটেবল চপ বিক্রিতে লাভ বেশি।
কোচবিহার শহরে কেজি পিছু বিট ১০০ টাকা, গাজর ৮০, বিনস ১০০, ক্যাপসিকাম ১০০-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভবানীগঞ্জ বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী রবি সাহা বলেন, “গত দু’মাস ধরেই গড়ে এমন দাম রয়েছে। তবে শীতের মরসুমে স্থানীয় জোগান বাজারে এলে দাম খানিকটা কমার সম্ভবনা রয়েছে।”
রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী রাম সাহা বলেন, ‘‘উত্তর দিনাজপুর জেলায় সে ভাবে বিট, গাজর, বিনস ও ক্যাপসিকামের চাষ হয় না। সারা বছর ধরেই শিলিগুড়ি-সহ ডুয়ার্সের নানা এলাকা থেকে এগুলি আমদানি করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকে আমদানির অভাবে ওই চারটি সব্জির পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি গড়ে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। সেই কারণে, খুচরো বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে শীতের ফলন উঠলে দাম অনেকটাই কমবে বলে আশা করছি।’’
মালদহের বাজারগুলিতে ভিন্ন দরে বিক্রি হচ্ছে বিট-গাজরের মতো শীতের সব্জি। রবিবার বাজারগুলিতে কোথাও গাজর ৯০-১০০ টাকা, বিট ৭০-৮০ টাকা, বিনস ১০০-১১০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম ১০০টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ দিকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক উজ্জ্বল আচার্য বলেন, “ওই সব্জিগুলি সহজ পাচ্য। গাজর, বিটে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে, বিনস ও ক্যাপসিকামে আছে ভিটামিন সি। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই খাদ্য তালিকায় এ সব রাখা নিয়মিত রাখা দরকার।” বাজারের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সব্জি ব্যবসায়ী নরেশ সাহা বলেন, ‘‘বিনস ও ক্যাপসিকাম এই জেলায় উৎপাদন হয় না। বাইরে থেকে আনতে হওয়ায় সারা বছরই কম বেশি একই দাম থাকে। গাজর-বিটও বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। জেলায় উৎপাদন হতে শুরু করলে দাম অনেকটা কমবে।’’
ইসলামপুর পুরসভা বাজারে অবশ্য এ সপ্তাহে দাম খানিকটা কমই আছে। এখানে গাজর এবং বিট ৬০ টাকা কেজি দরে এবং ক্যাপসিকাম ৮০ টাকা কেজি দরে মিলছে। সব্জি বিক্রেতা সঞ্জীব কর বলেন, ‘‘বাজারে চাহিদা থাকে সব সময়ই। তবে বিয়ের মরসুমে চাহিদা অনেকটাই বেশি থাকে।’’ তবে চাঁচলের বিক্রেতা শেখ কালু, মহম্মদ রেজাউলরা জানান, গাজর ও বিট স্থানীয় ভাবে চাষ হলেও ক্যাপসিকাম ও বিনস চাষ হয় না বললেই চলে। কিন্তু গাজর ও বিট এখন যেটুকু বাজারে পাওয়া যায় তা চালানি তথা বাইরে থেকে আসে। তাই দাম অত বেশি। স্থানীয় চাষিদের গাজর ও বিট উঠতে আরও কিছুদিন দেরি রয়েছে। তা বাজারে আসতে শুরু করলে আবার দাম অনেকটাই কমে যাবে। কিন্তু চাঁচল বাজারে শীতকালীন সব্জি ওঠার পরেও ক্যাপসিকামের দামের তেমন হেরফের হয় না।
রায়গঞ্জ শহরের মোহনবাটী, এফসিআই, লাইনবাজারে দাম খানিকটা ওঠানামা করেছে। এ দিন গাজর বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা, বিট ৬০-৮০ টাকা, বিনস ৮০-৯০ টাকা ও ক্যাপসিক্যাম ৭০-১০০ টাকা প্রতি কেজিতে। মোহনবাটী বাজারের সব্জী বিক্রেতা বিমল দাস জানান, গরমের মরসুম সবে শেষ হওয়ায় শীত কালীন সব্জির এখনও জোগান কম। আর কিছু দিন বাদে জোগান বাড়লে দাম কিছুটা কমলেও কমতে পারে।