বন্ধ ও অচলাবস্থা চলা চা বাগানগুলি শীঘ্র খুলতে সরাসরি শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠকের উদ্যোগ নিলেন তৃণমূলের জেলা সাভাপতি। শনিবার আলিপুরদুয়ার জেলার চারটি বন্ধ বাগানে যান তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী। সেখানে শ্রমিকদের শীত বস্ত্র, চাল, তেল বিলি করেন তিনি। তিনি জানান, আগামী ২৩ ডিসেম্বর উত্তরকন্যায় বন্ধ ও অচলাবস্থা চলা বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক।
এ দিন লঙ্কাপাড়া, তুলসিপাড়া, রেডব্যাঙ্ক ও সুরেন্দ্রনগর চা বাগানে যান সৌরভবাবু। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চার দিন ধরে বাগরাকোট থেকে শুরু করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের বন্ধ ও অচল চা বাগান শ্রমিকদের সমস্যা শুনতে যাচ্ছেন তিনি।
সৌরভবাবু বলেন, ‘‘বাগানগুলি খোলার পাশাপাশি পানীয় জল, স্বাস্থ্য-সহ নানা বিষয়ে সরাসরি শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানো হবে শ্রমিকদের। ২৩ তারিখ উত্তরকন্যায় তিনি দুই জেলার জেলাশাসক, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সচিব, শ্রম দফতরের সচিব, স্বাস্থ্য কর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’’ তবে তাঁর দাবি, পরিদর্শনের সময় শ্রমিকদের থেকে তিনি জানতে পেরেছেন বাগানে রাজ্য সরকারের তরফে চাল দেওয়া হচ্ছে। অনাহার নেই, কিন্তু পানীয় জল ও ওষুধের সমস্যা রয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত চার দিনে প্রায় পাঁচ হাজার শীত বস্ত্র বাগানগুলিতে বিলি করা হয়েছে। সঙ্গে চাল, সরষের তেল, চিনি দেওয়া হয়েছে শ্রমিক পরিবারগুলিকে। সৌরভবাবু বলেন, “খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে অনুরোধ করেছিলাম বন্ধ ও অচল বাগানগুলিতে সরকারের তরফে যে ত্রাণ দেওয়া হয় তা ১২ কেজি থেকে বাড়িয়ে পরিবার পিছু ৩৫ কেজি করাতে। উনি বন্ধ বাগানের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছেন। আজ ১৭টি বন্ধ ও অচল বাগানের তালিকা পাঠিয়েছি।’’ এ দিন বন্ধ বাগানে যান জেলাপরিষদের সভাধিপতি মোহন শর্মা। তিনি জানান, রেডব্যাঙ্ক চা বাগানে বীরপাড়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সুমনা ওরাঁওের বাবা ও মা দু’জনেই মারা গিয়েছেন। তিনি ওই ছাত্রীর পড়াশোনার জন্য এ দিন তাঁর হাতে দু’হাজার টাকা তুলে দেন।