শিশুদিবসেও পার্ক বন্ধই তুফানগঞ্জে

দোলনা ভেঙে গিয়েছে। লোহার রেলিংও জরাজীর্ণ। স্লিপারের চার দিকে আগাছার জঙ্গল। ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে গোটা চত্বর। সাপের উপদ্রবও আকছার হয় বলে অভিযোগ। এটাই তুফানগঞ্জের একমাত্র শিশু উদ্যানের চিত্র।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৪৭
Share:

দোলনা ভেঙে গিয়েছে। লোহার রেলিংও জরাজীর্ণ। স্লিপারের চার দিকে আগাছার জঙ্গল। ঝোপঝাড়ে ভরে গিয়েছে গোটা চত্বর। সাপের উপদ্রবও আকছার হয় বলে অভিযোগ। এটাই তুফানগঞ্জের একমাত্র শিশু উদ্যানের চিত্র।

Advertisement

এই নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু দিবসের দিনও প্রায় তিন মাস ধরে তালাবন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ওই উদ্যানের হাল না ফেরায় তাঁদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। শিশু দিবসে ঘটা করে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হলেও বাস্তবিক ভাবে শিশুদের জন্য কতটা ভাবা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে তুফানগঞ্জে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে যুব কংগ্রেস। শিশু দিবসের সকালে সংগঠনের নেতারা এলাকা ঘুরে ওই হুমকি দেন।

গোটা ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তির মুখে পড়েছেন তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কর্তারা। তুফানগঞ্জ পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান অনন্ত বর্মা বলেন, “খেলনার বিভিন্ন সামগ্রী ভেঙে যাওয়ায় শিশুদের যাতে হাত-পা কেটে না যায়, সে জন্যই মাস তিনেক ধরে সেটি বন্ধ। তবে নতুন চেহারায় দ্রুত সেটি শিশুদের ব্যবহার উপযোগী করে খোলার চেষ্টা হচ্ছে।” সেই সঙ্গে অনন্তবাবুর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন সিপিএম পুরসভার ক্ষমতা থাকলেও উদ্যানটির ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ না করাতেই ওই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

এলাকার বাসিন্দারা জানান, দেড় দশকেরও আগে সিপিএমের দখলে থাকা তুফানগঞ্জ পুরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের ‘আবাহন’ হলঘর সংলগ্ন প্রায় এক বিঘা জমির ওপর ওই শিশু উদ্যানটি তৈরি করেন। শহরের ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলোর পরিকাঠামো বলতে ভরসা ওই শিশু উদ্যানটি শুরুর দিকে ঠিকঠাকই রক্ষণাবেক্ষণ করা হত। এক জন অস্থায়ী কর্মীকেও পুরসভার তরফে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিদিন বিকেলে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের অনেকেই সেখানে যেতেন। শিশুরাও দোলনা, স্লিপারে খেলা দারুণ উপভোগ করত। স্থানীয় বাসিন্দা এক অভিভাবক রঞ্জিত সেন বলেন, “শিশু দিবসের দিনে ওই উদ্যানটি চালু করা হলে সেটি এলাকার শিশুদের জন্য সেরা উপহার হতে পারত।”

শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, তার পরেও শিশু উদ্যানটির পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন কিছু করা হয়নি। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেটির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্ত ভাবে উদ্যানের ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় সেটি বিক্ষিপ্ত ভাবে বন্ধও রাখা হয়। তবে গত পুরসভা নির্বাচনে তুফানগঞ্জ পুরসভা তৃণমূলের দখলে যাওয়ার পরে প্রায় তিন মাস টানা শিশু উদ্যানের গেটে যে ভাবে তালা ঝুলছে এমনটা হয়নি। তুফানগঞ্জ বিধানসভা এলাকার যুব কংগ্রেস সভাপতি শুভময় সরকার বলেন, “সিপিএম ও তৃণমূল দুই আমলের পুরসভার কর্তারাই শহরের শিশুদের নিয়ে আদৌ আন্তরিক নন। পুরসভা আন্তরিক হলে শিশু দিবসে সেটি ব্যবহারযোগ্য হতে পারত। দ্রুত উদ্যান সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ না দেখলে আন্দোলন হবে।” সিপিএম নেতা তথা তুফানগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুভাস ভাওয়াল অবশ্য জানান, শিশুদের জন্য ভাবনা রয়েছে বলেই তাঁরা উদ্যান তৈরি করেন। শেষে যোগ করেন, ‘‘আমরা অবশ্য রাজনৈতিক তরজা চাই না, দ্রুত উদ্যানটি ব্যবহারযোগ্য করে তোলা উচিত।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement