ফুলের দাম আকাশছোঁয়া, ফাঁকা দোকানে ব্যবসায়ীরা।—নিজস্ব চিত্র।
দুর্গাপুজোর মুখে রায়গঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ফুলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে শহরের সর্বজনীন ও পারিবারিক পুজো উদ্যোক্তাদের। ফুল ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকমাস আগে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বন্যার জেরে এ বছর ফুলের চাষ মার খেয়েছে। সেই সঙ্গে, উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও এ বছর অস্বাভাবিক গরম ও দেরিতে বর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ফলে আবহওয়াজনিত সমস্যা ও পর্যাপ্ত জলের অভাবে প্রয়োজনের তুলনায় এ বছর জেলায় আঞ্চলিক ফুলের চাষও কম হয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা গত বছরের তুলনায় এ বছর কলকাতার বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে ফুল কিনে শহরের খুচরো বাজারগুলিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার বিভিন্ন বাজারেও ফুলের অভাব।
জেলা উদ্যান পালন আধিকারিক দীপক সরকার বলেন, ‘‘আবহওয়াজনিত সমস্যার কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় প্রায় ৫৫ শতাংশ কম ফুল চাষ হয়েছে।’’
রায়গঞ্জের প্রবীণ ফুল ব্যবসায়ী তপন সাহার দাবি, কয়েকমাস আগে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বন্যার জেরে ফুলের চাষ মার খেয়েছে। ফলে এ বছর কলকাতার পাইকারি বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় ৭০ শতাংশ কম ফুল বিক্রি হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবে ফুলের সঙ্কট দেখা দেওয়ায় দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে জেলাতেও আঞ্চলিক ফুলের চাষ কম হওয়ায় স্থানীয় স্তরে চাহিদা অনুযায়ী ফুলের যোগান নেই বললেই চলে। তপনবাবুর কথায়, ‘‘অনেক ব্যবসায়ী চড়া দামে বিহার, ওড়িশা, দিল্লি ও বেঙ্গালুরু থেকেও ফুল আমদানি করছেন। তাই এবছর খুচরো বাজারে ফুলের দাম বেড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’’
ফুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর কেজি প্রতি গাঁদাফুল খুচরো বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এবছর তা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। পদ্ম প্রতি ১০০টির দাম গত বছর ২০০ টাকা থাকলেও এবছর তা বেড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা হয়েছে। আঞ্চলিক পদ্মের মানও ভাল না হওয়ায় পুজো উদ্যোক্তাদের শতদল পদ্ম কিনতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে। কেননা, গতবছর শতদল পদ্ম প্রতি ১০০টির দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা থাকলেও এবছর তা বেড়ে হয়েছে ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকা। প্রতি কেজি রজনীগন্ধা ফুলের দাম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় এক একটি গোলাপের দাম ৩ টাকা থেকে বেড়ে ৭টাকা ও বেঙ্গালুরুর গোলাপ ১২ টাকা থেকে বেড়ে ২০ টাকা হয়েছে। দাম বেড়েছে দুর্গা সহ বিভিন্ন দেবদেবীর রজনীগন্ধার মালার সাজের দাম। গতবছর প্রতিসেট মালার সাজের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এবছর তা বেড়ে ৯০০ থেকে ১৩০০ টাকা হয়েছে।
শহরের মোহনবাটী বাজারের ফুল ব্যবসায়ী রমেন বর্মন ও সনাতন ভৌমিকের দাবি, পাইকারি বাজার থেকে চড়া দামে ফুল আমদানি করার পর অনেকক্ষেত্রে সময় মতো বিক্রি না হওয়ায় অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এবছর খুচরো বাজারে যে কোনও ফুল কেজিপ্রতি বিক্রি করে গড়ে ৭০ থেকে ১০০ টাকার বেশি লাভ হচ্ছে না।
রায়গঞ্জের রবীন্দ্রপল্লি পীযূষ স্মৃতি দুর্গামন্দির কমিটির অন্যতম কর্ণধার রাজারাম মজুমদার ও রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো উদ্যোক্তা শিবশঙ্কর রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘ফুলের যা দাম, তাতে ১৩০০ টাকা খরচ করে রজনীগন্ধার মালার সাজ কিনতে না পেরে ৩০০ টাকা দিয়ে গাঁদা ফুলের সাজ কিনতে বাধ্য হয়েছি।’’