সালিশি করল কারা, শাস্তি চান বাসিন্দারা

গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ বাসিন্দা দিনমজুর। ছোট বচসা-বিবাদ ছাড়া বড় ধরনের হিংসা বা অপ্রীতিকর ঘটনা গ্রামে ঘটেনি বলেই বাসিন্দাদের দাবি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:১৭
Share:

গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ বাসিন্দা দিনমজুর। ছোট বচসা-বিবাদ ছাড়া বড় ধরনের হিংসা বা অপ্রীতিকর ঘটনা গ্রামে ঘটেনি বলেই বাসিন্দাদের দাবি।

Advertisement

এ হেন গ্রামে একই রাতে তিন কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সেই অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং এক কিশোরীর আত্মহত্যা পুরো গ্রামের পরিবেশকে থমথমে করে তুলেছে। অভিভাবকদের মধ্যে চেপে বসেছে আতঙ্ক। ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও, সেখানেই সালিশি সভা বসিয়ে বিষয়টি ‘মিটমাট’ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনই নানা অভিযোগ শুনে আশঙ্কায় বাসিন্দাদের অনেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অনেকেরই আশঙ্কা, মুখ খুললে তাঁদেরই না বিপদে পড়তে হয়। এমনই উদ্বেগ-আতঙ্কে থমথমে হয়ে রয়েছে তপন ব্লকের গ্রামটি। ক্ষোভও দানা বেঁধেছে ওই গ্রামে। এক তৃণমূল নেতার নাম সালিশি সভায় জড়িয়ে যাওয়ায় এলাকার তৃণমূল বিধায়ক পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে বা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিরোধী দলগুলির দাবি। তবে বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সালিশি সভায় যে বা যাঁরা ছিল তাদের পরিচয় খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। বাসিন্দাদের দাবি, শুধু নেতা নয় এই ঘটনায় পুলিশ কর্মীদেরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাদেরও শাস্তি চায় তপনের গ্রাম।

গত ১১ ডিসেম্বর রাতে তিন ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশি সভাও বসে বলে গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সালিশি সভায় পুরো ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যাওযার পরেই এক ছাত্রী আত্মঘাতী হয় বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সালিশি সভায় নিশ্চয় চরম লজ্জায় পড়তে হয়েছিল নিগৃহীতাদের, সে কারণেই অপমান সহ্য করতে পারেনি তারা। আরও এক নিগৃহীতা ছাত্রী বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গিয়েছে। সেই ছাত্রী-সহ অন্য আরেক নির্যাতিতা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা আপাতত চাইল্ডলাইনের হোমে রয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ওই ছাত্রীদের সুস্থ করে মূলস্রোতে ফেরানোর ব্যবস্থাও করতে হবে।

Advertisement

ঘটনাটি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানোউতোরও শুরু হয়েছে। তপনের তৃণমূল বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদা অবশ্য সরাসরি দাবি করেছেন ধর্ষণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাঁর দাবি, ‘‘অভিযুক্ত ওই তিনজন নাবালক। ধর্ষণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে আজকাল যা হয়। সেরকম ঘটনা হয়েছিল। সিভিক পুলিশ মেয়েদের উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে গেলে উভয় পক্ষের ছেলেমেয়ের অভিভাবকেরা এসে বিষয়টি মিটিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।’’ বিধায়কের আরও দাবি, ‘‘নির্যাতিতাদের তরফে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। ওই টাকা না পেয়েই ঘটনার চারদিন পর অর্থাত ১৬ ডিসেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’’ যদিও ক্ষতিপূরণ দাবির কথা ঠিক নয় বলে মৃতার বাবা পাল্টা দাবি করেছেন।

কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নীলাঞ্জন রায় সালিশি সভায় তৃণমূল নেতা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করে দাবি করেন, ‘‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি ওই সালিশির উদ্যোক্তা ছিলেন এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েতের সদস্য হোসেন মণ্ডল। সে কারণেই তৃমমূল নেতারা কিছুই হয়নি বলছেন, কেউ বিষটিকে অ্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। পুরো ঘটনার তদন্ত চাই।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হীরেন সাহার অভিযোগ, ‘‘জেলায় আইনশৃঙ্খলার কোনও বালাই নেই, তা এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল।’’

ব্লক তৃণমূল নেতারা অবশ্য ঘটনা নিয়ে বিশদে মন্তব্য করতে চাননি। তপন ব্লক তৃণমূল সভাপতি মুকুল দে বলেন, ‘‘ঘটনার কথা একটু আগে শুনাম। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’ সালিশি সভায় উপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে যার বিরুদ্ধে, সেই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য হোসেন মণ্ডল সালিশির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement