হোমের বন্দিদশা কাটুক, চান আবাসিকরা

হোম তো নয়, যেন কারাগার। ছোট্ট একটি জায়গা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট ঘর। সেই ঘরেই রাখা হয় তরুণীদের। খেলাধুলোর মাঠ নেই। পড়াশোনার ব্যবস্থা নেই। টেলিভিশনের একটি ব্যবস্থা থাকলেও তা চলে সময় মেনে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৪৬
Share:

বাণেশ্বরের এই হোম থেকেই পালিয়েছিল তরুণীরা। নিজস্ব চিত্র।

হোম তো নয়, যেন কারাগার। ছোট্ট একটি জায়গা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট ঘর। সেই ঘরেই রাখা হয় তরুণীদের। খেলাধুলোর মাঠ নেই। পড়াশোনার ব্যবস্থা নেই। টেলিভিশনের একটি ব্যবস্থা থাকলেও তা চলে সময় মেনে।

Advertisement

ওই ‘বন্দিদশা’ থেকে মুক্তি পেতেই শনিবার রাতে কোচবিহারের বাণেশ্বরের একটি বেসরকারি হোম থেকে পাঁচ আবাসিক পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পালিয়ে যাওয়া পাঁচজন আবাসিকদের মধ্যে চার জনকে ওই দিন রাতেই উদ্ধার করে পুলিশ। বাকি এক জনকে সোমবার সকালে উদ্ধার করা হয়। হোমের একটি ঘেরা ছোট্ট জায়গায় তিনি লুকিয়ে ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ জানায়, পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ওই আবাসিক। ঘেরা জায়গার মধ্যেই সে আটকে পড়ে। সেখানে প্রায় ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় চুপ করে বসেছিল সে। এ দিন সকালে এক কর্মী তাঁকে দেখতে পেয়ে হইচই করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ওই আবাসিকেরা তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছে, এমন বন্দিদশা তাঁদের আর ভাল লাগছে না। তিন জন পড়াশোনা করতে চান। বাকি দু’জন ফিরতে চায় তাঁদের বাড়িতে।

সমাজ কল্যাণ দফতরের কোচবিহার জেলা আধিকারিক দেবদাস বিশ্বাস এ দিন ওই হোমে যান। তিনি বলেন, “পাঁচজন আবাসিককেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ওই আবাসিকদের তিন জন পড়াশোনা করতে চায় বলে জানিয়েছেন। জেলাশাসকের নির্দেশে একটি রিপোর্ট তৈরি করছি। ওই হোমে পরিকাঠামো গত সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকারের জায়গা নেই। আমরা পুরো বিষয়টি ভাল করে দেখছি।” কোচবিহার জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান স্নেহাশিস চৌধুরী বলেন, “হোমের কোনও আবাসিক যাতে কষ্টের মধ্যে দিন না কাটান সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে তাঁদের জীবনে যাতে একঘেয়েমি না আসে। পড়াশোনা, স্বাস্থ্য সবদিক সুবিধে যাতে তারা পায় সে দিকে নজর দিতে হবে। অসুবিধের মধ্যে থাকলেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে তাঁরা।”

Advertisement

১৯৯৪ সালে বাণেশ্বরের একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে ওই স্বল্পকালীন আবাস তৈরি করে। হোম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তা বাবলু কার্জি বলেন, “চার হাজার স্কোয়্যার ফুট জমিতে হোম তৈরি করেছি। ৩০ জন আবাসিককে একসঙ্গে রাখা সম্ভব। খেলার মাঠ তৈরির চেষ্টা চলছে। পড়াশোনার বিষয়ে প্রশাসনকে নিরাপত্তা দিতে হবে। সে কথা সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানো হয়েছে।”

প্রশসান সূত্রের খবর, সরকারি ও বেসরকারি হোম থেকে আবাসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা কোচবিহারে একাধিকবার ঘটেছে। বাণেশ্বরের ওই হোম থেকেই এর আগে দুই বার আবাসিকরা পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ওই হোমে মূলত ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মহিলাদের রাখা হয়। অভিযোগ, ওই বয়সের মহিলাদের জন্য একটি হোমে যে যে সুবিধে রাখা তার অধিকাংশই নেই সেখানে। তাঁদের সেখানে একরকম জোর করে আটকে রাখা হয়। সে কারণে ওই মহিলারা নানা সময়ে হিংস্র হয়ে ওঠেন বলেও জানিয়েছেন হোম কর্মীরা। ওই হোমের কর্মীদের উপরে একাধিকবার আবাসিকদের কয়েকজন হামলা করে বলে দাবি। কয়েকজন সেখানে জিনিসপত্র ভাঙচুরও চালায়।

সমাজ কল্যাণ দফতর সূত্রের খবর, এমন হোমের ক্ষেত্রে খেলার মাঠ, পড়াশোনার জন্য জায়গা-সহ নানা ব্যবস্থা রাখতে হয়। যাতে আবাসিকরা কখনও হাঁফিয়ে না ওঠেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। ওই হোমে সে সব ব্যবস্থা নেই। কাউন্সেলিংয়ের জন্য একজনকে রাখা হয়েছে সেখানে। কিন্তু ওই বয়সের মেয়েদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ মনোবিদ রাখারও দাবি উঠেছে। কারণ, ওই বয়সের মেয়েরা হোমের ভিতরে মানসিক ভাবেও নানা সময়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের সেই জায়গা থেকে বের করে না আনলে সমস্যা বাড়বে। হোমে কর্মী সংখ্যা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। হোমে একজন সুপারিন্টেডেন্টকে নিয়ে ৬ জন কর্মী রয়েছে। সুপারিন্টেডেন্ট রাতে হোমে থাকেন না । রাতে একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকেন সেখানে। ওই কর্মী সংখ্যাও বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement