দশ মাস ধরে নিখোঁজ ছিল বছর সতেরোর কিশোর ইরফান আলি। মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে খুঁজতে বাড়ির লোক জন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করেও তাকে পাননি। রবিবার রাতে সেই ছেলের খোঁজ মিলল কলকাতা থেকে।
কী করে?
মালদহের হরিশচন্দ্রপুর থানা থেকে জানানো হয় ছেলে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি। এত দিন পরে ছেলের খবর পেয়ে সোমবারই মালদহ থেকে ট্রেন ধরে কলকাতায় হাজির হন ইরফানের পরিবারের লোক জন। পরে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা। আর এই মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করিয়ে বাড়ি পাঠানোর জন্য ইরফানের কাকা বদরুদ্দিন জানান, পুরো কৃতিত্বটাই কলকাতা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর মৃণালকান্তি দাসের।
কী বলছেন ইরফানের পরিবারের লোকজন?
ইরফানের পরিবার সূত্রের খবর, ছোটবেলা থেকেই সে মানসিক ভাবে অসুস্থ এবং মালদহের হরিশচন্দ্রপুরের স্থানীয় হাসপাতালে তার চিকিৎসাও চলত। ২০১৪ সালে কালীপুজোর দিন এলাকায় যাত্রা দেখতে বেরিয়ে আর সে বাড়ি ফেরেনি। তার পর থেকে গত দশ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় তার খোঁজ করেন। হঠাৎ-ই গত রবিবার হরিশচন্দ্রপুর থানা থেকে অফিসারেরা গিয়ে তাঁদের জানান ইরফানের খোঁজ মিলেছে। ওই অফিসার একটি ফোন নম্বরও দেন যোগাযোগ করার জন্য।
পরিবারের লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে সেই ফোনে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ইরফান কলকাতায় রয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি। খবর পেয়ে সোমবারই তাঁরা কলকাতায় আসেন। এ দিকে উদ্ধারকারী পুলিশকর্মী জানান, গত ২১ জুলাই থানায় ফোন আসে একটি ছেলে যোধপুর পার্ক বাজারে গিয়ে রীতিমতো গোলমাল করছে। মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হওয়ায়, বাজারের লোকেরা তাকে আটকে রেখেছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই এসআই মৃণালকান্তিবাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে ইরফানকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, ‘‘ওই সময়ে ওকে সামলানো যাচ্ছিল না। হিংস্র আচরণ করছিল। তাই ওকে নিয়ে প্রথমে এসএসকেএম এবং পরে সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে পাভলভে ভর্তি করাই।’’ কিন্তু তখনও ওই কিশোর নিজের নাম কিংবা পরিচয় বলতে পারছিল না। সম্প্রতি পাভলভ থেকে ফোন করে চিকিৎসকেরা জানান, ওই কিশোর নিজের নাম এবং ঠিকানা বলতে পারছে। তবে সেই ঠিকানা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
এর পর মৃণালকান্তিবাবু হরিশচন্দ্রপুর থানায় ফোন করে পুরো বিষয় জানিয়ে ছেলেটির বাড়ির খোঁজ নিতে বলেন। কিশোরের কথা মিলে যাওয়ায় বাড়ির লোককে কলকাতায় আসতে বললে, সোমবারই তাঁরা আসেন ছেলেকে নিতে। মঙ্গলবার ইরফানের কাকা ভাইপোকে ফেরত পেয়ে আপ্লুত। তবে বাড়ি নিয়ে গেলেও ইরফানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলে তাঁদের জানিয়েছেন পাভলভের চিকিৎসেকরা। এমনটাই দাবি ওই কিশোরের পরিবারের।