১০০ কিমি জাতীয় সড়ক তৈরির প্রস্তাব

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি(এনটিডিপিসি)র তরফে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি দিয়ে বাংলাদেশের পলাশবাড়ি, গাইবান্দা হয়ে মেঘালয় পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরির প্রস্তাব কার্যকর করার নাগরিকদের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩৫
Share:

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি(এনটিডিপিসি)র তরফে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি দিয়ে বাংলাদেশের পলাশবাড়ি, গাইবান্দা হয়ে মেঘালয় পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরির প্রস্তাব কার্যকর করার নাগরিকদের দাবি জোরালো হচ্ছে। বালুরঘাট-হিলিকে কড়িডর করে বাংলাদেশ হয়ে মেঘালয়ের মধ্যে সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে যোগাযোগের পুরনো পরিকাঠামো ব্যবহারের দাবিতে ইতিমধ্যে হিলি-বালুরঘাট, মেঘালয় এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের নাগরিক এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রতি বালুরঘাট ও হিলিতে দুবার মিলিত হয়ে বৈঠক করে সর্বদলীয় যৌথ আন্দোলন কমিটি গড়ে তুলেছেন। মেঘালয় এবং বাংলাদেশের তরফে ওই কড়িডর চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারী প্রতিনিধি থেকে মন্ত্রী মহলে দাবি সনদ পেশ করেছেন।

Advertisement

রবিবার বিষয়টি নিয়ে ফের বালুরঘাটে কনভেনশন থেকে বিশিষ্ট নাগরিকেরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিনের বৈঠকে হিলির বিশিষ্ট নাগরিক থেকে বহির্বাণিজ্য ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চলতি মাসে ১১ জনের এক প্রতিনিধি দল দিল্লিতে রওনা হবেন। দুটি বঞ্চিত এলাকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষে ওই যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে যৌথ আন্দোলন কমিটির মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় সমস্ত সাংসদের কাছে দাবি সনদ পাঠিয়ে বিষয়টি সরকারি স্তরে হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের তরফে সংশ্লিষ্ট জেলার সাংসদেরও সমর্থন মিলেছে বলে কমিটির আহবায়ক নবকুমার দাস জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশভাগের আগে হিলি সীমান্ত দিয়ে ততকালীন দার্জিলিং মেল ট্রেনে চেপে বালুরঘাটের মানুষ মাত্র ৬ ঘন্টায় কলকাতা পৌঁছতেন। হিলি-সান্তাহার-দর্শনা-ঈশ্বরদি-হার্ডেনব্রীজ-ভেড়ামারা-রানাঘাট-শিয়ালদহ সাবেক ওই রেলপথ রুটটি এখনও চালু রয়েছে। এবং দর্শনা ও গেদে পর্যন্ত ট্রেনও চলাচল করে। ওই রেলপথ দিয়েই একসমময় কোচবিহার, অসম থেকে মেঘালয়ের বাসিন্দাদের কলকাতা সহ অন্যত্র খুব অল্প সময়ে যাতায়াত চালু ছিল। কিন্তু দেশভাগের পর ওই রেলপথ বাংলাদেশের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ সহজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সহজ পথ হারিয়ে দেশের সীমান্তের এক কোণে পড়ে থাকা দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে মেঘালয়ের উন্নতির পথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাই অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাদের দাবি।

Advertisement

আলোচনা সভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিমাংশু সরকার বলেন, ইতিমধ্যে মেঘালয়ের পশ্চিম হিলের জেলা সদর তুরা থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার। মেঘালয়ের তুরা থেকে মহেন্দ্রগঞ্জ হয়ে ভায়া বাংলাদেশের হিলি রেলপথ দিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি-বালুরঘাট হয়ে কলকাতার দূরত্ব কমে দাঁড়াবে প্রায় ৯০০ কিলোমিটারে। অথচ বর্তমানে মেঘালয়ের মানুষকে অসম, শিলিগুড়ি, মালদহ হয়ে কলকাতা যেতে বর্তমানে প্রায় আরও ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পথ বেশি অতিক্রম করতে হয়। একইভাবে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট-হিলির মানুষ বাংলাদেশের হিলি রেলপথ দিয়ে জয়পুরহাট—দর্শনা হয়ে শিয়ালদহ পৌঁছতে মাত্র প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মাত্র ৫ ঘন্টায় কলকাতা পৌঁছতে পারবেন। দেশভাগের পরে বাংলাদেশের দিকে বন্ধ হয়ে পড়া এই রুটটি চালুর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বর্তমানে বালুরঘাট- হিলির সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার।

পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয় রাজ্য সরকারের তরফে এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রেরিত অ্যাকশন প্ল্যানের উপর ভারত-বাংলাদেশ সরকার সম্মতি দিলে ওই পথ পুণরায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে বলে এদিনের সভা থেকে নাগরিকেরা আশা ব্যক্ত করেন। কমিটির আহ্বায়ক নবকুমার দাস বলেন, হিলি-মেঘালয় কড়ডরের বিষয়টি কার্যকর হয়নি।

তুরার বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বাঙালী ক্লাবের সম্পাদক বিপ্লববাবু অভিযোগ করেন, দেশভাগের পর মেঘালয় সবদিক দিয়ে উপেক্ষিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় মেঘালয়ের জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। ফলে বালুরঘাট-হিলি থেকে বাংলাদেশের হিলি দিয়ে গাইবান্দা—পলাশবাড়ি হয়ে মেঘালয়ের মহেন্দ্রগঞ্জ রুট চালু হলে গাড়ো, খাসিয়াপাহাড় থেকে দারু সীমান্তবাসী সহ গোটা মেঘালয় রাজ্য আর্থসামাজিক দিক দিয়ে উন্নত হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement