মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
মিউটেশন সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে আর দফতরের দফতরে ঘুরে বেড়াতে হবে না। এক ক্লিকেই সমস্যার সমাধানের পথ খুলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের ‘বাংলার ভূমি’ পোর্টালকে একেবারে নতুন রূপে সাজিয়ে তাতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক ‘আপিল মডিউল’। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করলেই মিউটেশন, পাট্টা এবং বর্গা সংক্রান্ত সমস্যায় অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
কোনও জমি কেনার পর পরচা তৈরি ও মিউটেশন একটি অত্যাবশ্যক প্রক্রিয়া। কারণ, মিউটেশন না হলে সরকারি নথিতে নতুন মালিকের নামে সেই জমি রেকর্ড হয় না। এই মিউটেশন নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতি বছর হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এত দিন এই সব অভিযোগ জানাতে সাধারণ মানুষকে বিডিও অফিস, বিএলআরও বা জেলাশাসকের দফতরে একাধিক বার যেতে হত। নতুন ব্যবস্থায় সেই ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলেই মনে করছে নবান্ন।
মিউটেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণত ক্রেতা ও বিক্রেতা, এমনকি প্রয়োজনে রেকর্ডভুক্ত মালিককেও হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়। শুনানিশেষে রেভিনিউ অফিসার বা বিএলআরও অনুমতি দেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিক্ট ল্যান্ড অফিসার (ডিএলআরও)-র দফতরে আপিল করা হয়। এ বার সেই আপিলের পুরো প্রক্রিয়াই হবে অনলাইনে।
মিউটেশনের পাশাপাশি বর্গাদারের নাম বাদ পড়া, ফসলের ভাগ নিয়ে বিবাদ, জমির অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগও এই আপিল মডিউলের মাধ্যমে দাখিল করা যাবে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার আপিল জমা পড়ে। অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিটি মামলার অগ্রগতি একনজরে দেখা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং লাল ফিতের ফাঁস অনেকটাই কাটবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।