রাজ চক্রবর্তী। —ফাইল চিত্র।
আগামী তিন বছর তাঁদের বেশির ভাগের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলি ঘেরা থাকবে বিজেপি বিধায়কে। কাজ করার জন্য লড়তে হবে আগের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই আবহে তৃণমূলের টলিউড থেকে আসা লোকসভার সাংসদদের কেউ জানাচ্ছেন, তিনি সময় চান ধাতস্থ হতে, তত দিন তৃণমূলের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শামিল হবেন না। এমন অভিযোগও কেউ কেউ তুলছেন যে অভিনয় জগৎ থেকে আসায় অগ্রজ নেতারা গুরুত্ব দেননি এত দিন, এক পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন। সর্বোপরি ‘অপারেশন লোটাস’ নিয়ে চিন্তাভাবনাও তাঁদের চলছে বলে রাজনৈতিক শিবিরের মত।
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য আত্মবিশ্বাসী, ফিল্মজগতের সাংসদরা বড়জোর পদত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু বিজেপি-তে যাবেন না। এ ক্ষেত্রে ‘রাজ চক্রবর্তী মডেল’-এর কথাও বলছেন তাঁরা। ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে হেরে গিয়েছেন এই পরিচালক এবং তারপর রাজনীতি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, ফিরে আসার দীর্ঘ লড়াই এবং প্রবল পরিশ্রমের মধ্যে না গিয়ে, নায়ক-নায়িকারা বড়জোর পদত্যাগ করবেন, রাজনীতি ছেড়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন পুরো সময়ের জন্য। যদিও তাতে ওই কেন্দ্রগুলিতে উপনির্বাচনের দরজা খুলবে এবং এই তৃণমূল বিরোধী হাওয়ায় বিজেপিরই আখেরে লাভ হবে।
তবে এই পদত্যাগের তত্ত্ব টলি সাংসদরা উড়িয়ে দিচ্ছেন বলে আপাতত জানা গিয়েছে। এখনও তিন বছর মেয়াদ বাকি রয়েছে সাংসদদের। রাজ চক্রবর্তীর বিষয়টা তা ছিল না। সূত্রের খবর, তৃণমূলের এক বড় মাপের তারকা সাংসদ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে দল বদল (বিজেপিতে যোগদান) করবেন না। আপাতত তৃণমূলের হয়ে রাস্তায় নেমে রাজনীতিও করবেন না। তিনি একটা ‘ব্রেক’ নেবেন। এক কথায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন।
২০০৯ থেকে টানা চার বারের সাংসদ শতাব্দী রায়, এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিক। দলের উপর বার বার নানা কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সূত্রের দাবি, চব্বিশের ভোটের আগে তাঁকে পেতে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি, শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ, শতাব্দীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে তাঁর বিজেপি যাওয়া আটকেছিলেন। আজ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, “আমি ফলাফলের পর এতটাই স্তম্ভিত হয়ে রয়েছি যে একটু দূরে থাকছি সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে। সময় নিচ্ছি, নিজের মতো করে ভাবার। ভবিষ্যতে কী হবে তা বলার মতো পরিস্থিতি আসেনি এখনও।”
গত দু’বছর অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত বসে থাকতে দেখা যেত জুন মালিয়াকে। প্রশ্নোত্তর পর্ব, সংসদের শূন্য প্রহর বা বিতর্কেও যথাসাধ্য অংশ নিতেন তিনি। এই মুহূর্তে তাঁর প্রবল ব্যস্ততা চলছে সিরিয়াল, ওটিটি-র কাজ নিয়ে। বললেন, “আমি আগেই নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছিলাম ফিল্ম সংক্রান্ত কাজের চাপ আসছে, ফলে বাদল অধিবেশনের পর টানা ব্যস্ততা থাকবে। কারণ অভিনয় আমার পেশা এবং পরিচিতির অঙ্গ, সেটা তো ছাড়া যায় না।” আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন নিয়ে কী ভাবছেন জুন? তাঁর কথায়, “অন্যদের প্রচারেও আমাদের ব্যবহার করা হয়েছে, অনেক কঠিন আসনে গিয়ে প্রচার করতে বলা হয়েছে। অথচ আমাদের সিনিয়রদের মুখে শুনেছি আমরা অরাজনৈতিক, গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। পাশে সরিয়ে রাখা হত।” তাঁর বক্তব্য, “এই অভ্যাস এখন থেকে যেন বন্ধ হয়, এটাই চাইব। কারণ, চিত্রতারকাদের দলে নিলে, তাঁদের কাজেও লাগাতে হবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। তাঁরা তো রাষ্ট্রপতি মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ নন।” আপাতত ‘পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন’ জুন। জানিয়েছেন পদত্যাগ তিনি করবেন না, কারণ মানুষ তাঁকে আশাভরসা করে জিতিয়ে এনেছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে