ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট মেলেনি। তার আগেই রানাঘাটের কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি এবং বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের মামলায় মোট ন’জন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে চলেছে সিআইডি। ওই ন’জন অভিযুক্তের মধ্যে ছ’জন ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। তিন জন এখনও পলাতক। ন’জনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, ষড়যন্ত্র-সহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে।
ভবানী ভবন সূত্রের খবর, আজ, সোমবার রানাঘাট আদালতে ওই চার্জশিট পেশ করা হতে পারে। এই ব্যাপারে গোয়েন্দারা শনিবারেই আদালতের অনুমতি নিয়ে রেখেছেন বলে সিআইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। চার্জশিটে সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের বিষয়টি অবশ্যই রাখা হচ্ছে। তবে কে ধর্ষণ করেছে, সেই বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হচ্ছে না বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে।
গত ১৩ মার্চ রাতে রানাঘাটের ওই কনভেন্ট স্কুলে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। টাকা লুঠের সঙ্গে সঙ্গে ওই স্কুলের এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণও করা হয়। ঘটনার দু’সপ্তাহের মাথায় হাবরায় গোপাল সরকার, মুম্বইয়ে সালিম শেখ এবং বনগাঁ স্টেশনে খালেদর রহমান মিন্টু ওরফে ফারুক নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সিআইডি। পরে শিয়ালদহ স্টেশনে ধরা পড়ে মিলন সরকার এবং ওহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু নামে অন্য দুই অভিযুক্ত। গত বুধবার গ্রেফতার করা হয় নজরুল ইসলাম ওরফে নজুকে। গোয়েন্দারা জানান, ধৃত ওই ছ’জনের নামই থাকছে চার্জশিটে। পলাতক হিসেবে দেখানো হচ্ছে তুহিন, হাবিব ও সেলিম নামে তিন বাংলাদেশি দুষ্কৃতীকে। সিআইডি-র দাবি, ওই ঘটনায় নজু আর মিলনই মূল চক্রান্তকারী। ঘটনার পরেই তারা দু’জনেই বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
চার্জশিটে সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের কথা বলা থাকলেও কে ধর্ষণ করেছে, তা উল্লেখ করা হচ্ছে না। তবে গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছেন, সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করেছিল নজু। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য গোয়েন্দারা সন্ন্যাসিনীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ওই সন্ন্যাসিনীর রক্ত। গোয়েন্দারা জানান, চাদরে লেগে থাকে রক্ত ও বীর্যের নমুনা অভিযুক্তদের ডিএনএ-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ডিএনএ বা ফরেন্সিক রিপোর্ট রবিবার পর্যন্ত গোয়েন্দাদের হাতে আসেনি বলেই ভবানী ভবন সূত্রের খবর।