আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত তদারকি করেছেন সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর ভি চন্দ্রশেখর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআই যে তদন্ত করেছে, তার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন জয়েন্ট ডিরেক্টর ভি চন্দ্রশেখর। অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁকেও বিশেষ ভাবে সম্মানিত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পদক। প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে এই পদক তুলে দেবেন। সিবিআইয়ের আরও ৩১ জন আধিকারিককে সোমবার এই সম্মান প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা পিটিআই।
আরজি করের তদন্তপর্বে কলকাতাতেই ছিলেন চন্দ্রশেখর। একাধিক বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুজরাত ক্যাডারের ২০০০ সালের ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার আরজি কর ছাড়াও পুণেতে নিহত সমাজকর্মী নরেন্দ্র দাভোলকরের খুনের তদন্তে যুক্ত ছিলেন। সিবিআইয়ের বিভিন্ন সূত্রে দাবি, চন্দ্রশেখর সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেন। পদমর্যাদার সুযোগ নেন না, কখনও কারও সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেন না। দলের নেতা হিসাবে অধস্তনেরা অনেকেই তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
পুলিশ পদকের জন্য মনোনীত আধিকারিকদের একটি তালিকা রবিবার সকালে প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। চন্দ্রশেখরকে এই পদক দেওয়া হবে তাঁর ‘বিশেষ পরিষেবা’র জন্য। সরকারি বিবৃতিতে আরজি করের কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অতীতে আরজি কর-কাণ্ডের মতো হাই-প্রোফাইল মামলার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অনেকেই মনে করছেন তা এই পদকপ্রাপ্তির অন্যতম কারণ।
চন্দ্রশেখর ছাড়া বিশেষ পরিষেবার জন্য সোমবার পুলিশ পদক পাচ্ছেন পুলিশ সুপার অমিত শ্রীবাস্তব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকেশ শর্মা, সাব-ইনস্পেক্টর প্রমোদকুমার যাতি, সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর চমন লাল এবং হেড কনস্টেবল রামু গোল্লা। এ ছা়ড়া, সিবিআইয়ের ২৫ জন আধিকারিককে পুলিশ পদক দেওয়া হচ্ছে ‘মেধাবী পরিষেবা’র জন্য। এই তালিকায় আছেন ২০০৭ সালের ব্যাচের আইপিএস অফিসার সি বেঙ্কট সুব্বা রেড্ডি, তাঁর সহপাঠী সদানন্দ শাকারাও দাতে-সহ আরও অনেকে।
আরজি করের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। পরে এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। সঞ্জয়কেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যে সিবিআই আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল। সেখানে সঞ্জয়কেই আরজি কর-কাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। পরে শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি শোনায়। এখনও আরজি কর মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। ধর্ষণ-খুনের পাশাপাশি হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তিনি এখনও জেলে।