Special Intensive Revision

‘আতঙ্কে’ আরও মৃত্যুর অভিযোগ, তরজা দু’পক্ষে

২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও গণনা-পত্রে সে তথ্য উল্লেখ করেননি রামপুরহাটের কাঞ্চন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ব্লক অফিসে শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে সঙ্গে থাকা সাইকেলের উপরে মুখ থুবড়ে পড়ে যান কাঞ্চন। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হলে জানানো হয়, হৃদ্‌রোগে মারা গিয়েছেন কাঞ্চন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৭
Share:

ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে ‘পরিবর্তন সঙ্কল্প সভা’য় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। — নিজস্ব চিত্র।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘আতঙ্কে’ আবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। বীরভূমের রামপুরহাটে কাঞ্চনকুমার মণ্ডল (৭৬) এবং উত্তর ২৪ পরগনার বলাই দাসের (৫০) মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর-‘চাপে’র কথা বলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও পরিবার। এই প্রেক্ষিতে বাঙালিকে বিজেপি প্রাণে মেরেছে বলে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো দিকে, ‘পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ’ ভোটার তালিকার কথা বলে তৃণমূলকে পাল্টা নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যেরা।

২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও গণনা-পত্রে সে তথ্য উল্লেখ করেননি রামপুরহাটের কাঞ্চন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ব্লক অফিসে শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে সঙ্গে থাকা সাইকেলের উপরে মুখ থুবড়ে পড়ে যান কাঞ্চন। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হলে জানানো হয়, হৃদ্‌রোগে মারা গিয়েছেন কাঞ্চন। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বলাই দাস (৫০) শুক্রবার সকালে বিষ খেয়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছিল। রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বলাইয়ের ছেলে সুমন পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে বলেছেন, এসআইআর নিয়ে বাবাকে যাঁরা ভয় দেখিয়েছেন, তাঁরাই আত্মহত্যার জন্য দায়ী। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। শুনানিতে নথি আনতে বলায় অসুস্থ হয়ে মালদহের চাঁচলের ৭০ বছরের হামেদা বিবির ডান হাত-পা অসাড় হয়ে গিয়েছে বলে দাবি বাড়ির লোকজনের। পরিবারের দাবি, শুনানিতে নথি যাচাইয়ের পরে, তাঁকে সাত দিন পরে দলিল নিয়ে আসতে বলা হয়। অভিযোগ, তিনি ব্লক অফিস থেকে বেরিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

রামপুরহাটের বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনার কথা বাঁকুড়ার শালতোড়ায় দলীয় সভায় উল্লেখ করে তৃণমূল নেতা অভিষেক সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “এক সপ্তাহ আগে রানিবাঁধে এক বিএলও আত্মহত্যা করলেন। আসার সময়ে শুনলাম, বীরভূমে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে, এক ভদ্রলোক মারা গিয়েছেন। দু’মাসে প্রায় ৭০ জনকে আমরা হারালাম। বাঙালিকে শুধু ভাতে নয়, প্রাণে মেরেছে বিজেপি।”

উল্টো দিকে, বিজেপির বক্তব্য, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে তার সঙ্গে এসআইআর-কে জুড়ে দিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল। এই প্রেক্ষিতে পুরুলিয়ার পাড়ায় দলীয় সভা থেকে বিরোধী নেতা শুভেন্দু ফের বলেছেন, “১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে দেখবেন, তৃণমূল বলছে, ‘ভোটে লড়ব না’। একটাও মৃত, জাল, একাধিক জায়গায় নাম থাকা, অস্তিত্বহীন ভোটার, বাংলাদেশি মুসলমান, রোহিঙ্গার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না। পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকায় ভোট হবে।” শিলিগুড়িতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকেরও বক্তব্য, “তামিলনাড়ু সরকারের করা মামলায় ‘পার্টি’ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্ট অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ চলছে। সুস্থ স্বাভাবিক রাষ্ট্র, সমাজে এর বিরোধিতা হতে পারে?”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন