লাভ করুন অসময়ে ঢ্যাঁড়শ চাষে

এখন সব্জি চাষিদের একটা বড় সমস্যা—পরিশ্রম ও খরচ অনুয়ায়ী দাম না পাওয়া। দাম পাওয়ার জন্য তাই অসময়ে সব্জি চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বাজারে অসময়ের সব্জির দাম সব সময়ই চড়া। বিশেষ করে আগাম চাষে লাভ নিশ্চিত। শীতের শেষে বসন্তের প্রথম ভেন্ডি বা ঢ্যাঁড়শ এমনই এক লাভদায়ক সব্জি।

Advertisement

শুভদীপ নাথ

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৪:১৪
Share:

এখন সব্জি চাষিদের একটা বড় সমস্যা—পরিশ্রম ও খরচ অনুয়ায়ী দাম না পাওয়া। দাম পাওয়ার জন্য তাই অসময়ে সব্জি চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বাজারে অসময়ের সব্জির দাম সব সময়ই চড়া। বিশেষ করে আগাম চাষে লাভ নিশ্চিত। শীতের শেষে বসন্তের প্রথম ভেন্ডি বা ঢ্যাঁড়শ এমনই এক লাভদায়ক সব্জি। কারণ—

Advertisement

১) শীতের শেষ ও ফাল্গুনে গ্রীষ্মের আগাম সব্জি ‘প্রিমিয়াম প্রাইস’ দেয়।

২) বর্ষার ধান কেটে জমি খালি করে দেরিতে পেঁয়াজ বা অন্য কিছুর চাষে ফলন ও লাভ—কোনওটাই ভাল হয় না। তার বদলে অসময়ের ঢ্যাঁড়শ চাষ করলে বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়।

Advertisement

৩) এই চাষে চৈত্রের প্রথম থেকে মাঝামাঝি জমি খালি হয়ে যায়। এরপরে পাট বা অন্য সব্জি চাষ করে সুন্দর সমন্বয় করা সম্ভব।

Advertisement

বীজের জাত

শীতের মুখ থেকে প্রাক গ্রীষ্মে ‘সাহেব’ রোগের সমস্যা থাকে না। এই জন্য বেশি দামের রোগ সহনশীল বীজ না বুনে ওপেন পলিনেটেড ‘সুপার গ্রিন’ (ভিএনআর সিড), বা ‘লক্ষ্মী ২১’ (নোবেল সিড) বা ভাল সংস্থায় ‘পঙ্কজ’, ‘অর্ক-অনামিকা’ বাছুন। চাষিদের বক্তব্য অনুযায়ী এর মধ্যে ‘সুপারগ্রিন’ সহজলভ্য ও গুণে শ্রেষ্ঠ।

জমি তৈরি

আগের ফসল খালি হতেই এক ট্রাক্টর গোবর সারের সঙ্গে বিঘা প্রতি দু’কেজি নিমের দানা (বাজারে নাম নিমউর্জা ইত্যাদি) মিশিয়ে দু’বার চাষে জমি তৈরি করে সেচ দিন।

বীজ বোনা

জমিতে ‘জো’ এলে দেড় ফুটে মাটি টেনে হাল্কা নালা করে এই দেড় ফুটের দূরত্বে সারিতে একটি করে বীজ ফেলতে ফেলতে হেঁটে পুরো জমি বুনুন। বিঘায় চার কেজি বীজ লাগবে। এরপর ১০০-১৫০ কেজি গোবর/ কেঁচো সারের সঙ্গে এক কেজি হিউমিক অ্যাসিড দানা মিশিয়ে সারি বরাবর ফেলে মাটি ঢাকা দিন। এতে ঠান্ডা বাঁচিয়ে চারা সহায়ক ‘মাইক্রো-ক্লাইমেট’ পাবে। এটাই কৌশল।

পরিচর্যা

কার্তিকের শেষ থেকে অগ্রহায়নে চারা কিছুটা বড় হয়ে পৌষের শীতে আর বাড়বে না। মাঘ মাসে শীতের কামড় হাল্কা হলেই বিঘা প্রতি ২০ কেজি সুফলা (১০:২৬:২৬) ও এক কেজি হিউমিক অ্যাসিডের দানা মিশিয়ে সারির গোড়ায় দিয়ে মাটি তুলে দিন। জৈব চাষে ও বিনা রাসায়নিকে আগ্রহীরা এই সময় ও ১০-১৫ দিন বাদে আর এক বার তরল জৈব প্রাইম প্যাক (১.০: ২.৬: ২.৬) ৫ মিলি ও হিউম্যাক্স/হিউমিনল এক মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে পারেন রাসায়নিক সার না দিয়ে। ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হলে কীটনাশক হিসাবে দিতে পারেন ফ্লুবেন্ডিয়ামাইড বা ইন্ডোক্সা কার্ব।

লেখক মুর্শিদাবাদের সহ-উদ্যান পালন অধিকর্তা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement