রাস্তায় বালি-পাথর রাখার প্রতিবাদে মার, ধৃত নেতা

সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি হচ্ছে ডানকুনির এক তৃণমূল নেতার। ইমারতি সামগ্রী রাখা হয়েছে রাস্তাতেই। সঙ্কীর্ণ রাস্তা তাতে আরও সঙ্কীর্ণ হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০১৬ ০২:৫৪
Share:

সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি হচ্ছে ডানকুনির এক তৃণমূল নেতার। ইমারতি সামগ্রী রাখা হয়েছে রাস্তাতেই। সঙ্কীর্ণ রাস্তা তাতে আরও সঙ্কীর্ণ হয়েছে। এ জন্য প্রতিবাদ জানানোয় দুই ভাই ও তাঁদের এক আত্মীয়কে শাবল-রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল ওই নেতা ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে দেরি করেনি। শুক্রবার রাতে অভিযোগ পাওয়ামাত্র গ্রেফতার করা হয় শেখ জাকির নামে অভিযুক্ত ওই নেতা-সহ তিন জনকে।

Advertisement

শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে তৃণমূলের এক শ্রেণির নেতার চোখরাঙানি, গা-জোয়ারি, তোলাবাজি নিয়ে প্রথম মেয়াদে অভিযোগ ছিল বিস্তর। সামগ্রিক ভাবে রাজ্যের ভাবমূর্তিই ধাক্কা খেয়েছে তাতে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই সে সবের উপরে কড়া হাতে রাশ টানতে সক্রিয় হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে প্রশাসনকেও কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তোলাবাজির অভিযোগে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধাননগরের কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়কে। তার পরে কোন্নগরের এক বিডিও-র স্ত্রী-মেয়েকে মারধরের অভিযোগে ধরা হয় এক তৃণমূল কর্মীকে। দিন কয়েক আগেই এক তরুণীকে মারধরে অভিযুক্ত হাবরার কাউন্সিলর গৌতম বিশ্বাসকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে দলের নির্দেশে। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল ডানকুনির ঘটনাও।

কী হয়েছিল শুক্রবার?

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ জাকির নামে ওই তৃণমূল নেতা ডানকুনির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়ার বাসিন্দা। বাড়ি তৈরির জন্য মাস দেড়েক ধরে রাস্তাতেই ইট-বালি-পাথর ফেলে রাখছিলেন তাঁরা। তাতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেরই যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। আপত্তি জানানো হলেও জাকিররা কানে তোলেননি বলে অভিযোগ। শুক্রবার দুপুরে শেখ কিবরিয়া নামে স্থানীয় এক যুবক জাকিরকে ইট-বালি সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের বচসা এবং ধাক্কাধাক্কি হলেও তখনকার মতো বিষয়টি মিটে যায়। কিবরিয়া বাড়ি ফিরে যান। ঘণ্টা দু’য়েক পরে জাকির এবং তাঁর দুই আত্মীয় কিবরিয়া, তাঁর দাদা জাকেরিয়া এবং তাঁদের এক আত্মীয়ের উপরে রড-শাবল নিয়ে চড়াও হন বলে অভিযোগ। শেখ জাকেরিয়ার মাথা ফাটে। হাতেও গুরুতর চোট লাগে। তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে ভর্তি

করানো হয়।

রাতেই প্রহৃতেরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পরে জাকিরদের নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে শাবল-রড বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ধৃতদের শনিবার শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তিন জনকেই ১৪ দিন জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কিবরিয়া বলেন, ‘‘ওঁরা এমন ভাবে বালি-পাথর রাস্তায় ফেলে রাখে, একটা মোটরবাইক পর্যন্ত যেতে পারে না। আপত্তি জানানোয় এ ভাবে মারবে ভাবিনি।’’ পক্ষান্তরে, অভিয‌োগ উড়িয়ে জাকিরের দাবি, ‘‘জায়গা নেই বলেই বালি-পাথর রাস্তায় রাখতে হয়েছিল। যতটা সম্ভব ধারেই রেখেছিলাম। তবু কিবরিয়ারা এসে আমাকে গালিগালাজ, মারধর করে। আমরা কিছুই করিনি।’’

গোটা ঘটনার পরে কিছুটা স্বস্তিতে স্থানীয়েরা। কেননা, ওই ইমারতি সরঞ্জাম বস্তাবন্দি করে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তাতে যাতায়াতের পথ কিছুটা প্রশস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ তো বলেই দিলেন, আগে হলে শাসকদলের নেতার এমন দাপট সহ্য করতেই হতো। এ বার দল কড়া হাতে এ সব মোকাবিলা করছে।

হুগলি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব যে ডানকুনির ঘটনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুবীর মুখোপাধ্যায়ের কথায়। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় রাজনীতি নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘অভিযোগ মোতাবেক পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। দলে এখনও কেউ অভিযোগ জানাননি। জানালে দলও ব্যবস্থা নেবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement