DA

ডিএ-র দাবিতে ‘কালীঘাট চলো’, অবরোধ, তরজায় শাসক-বিরোধী

ডিএ নিয়ে সুপ্রিম-নির্দেশ মানা, ছ’লক্ষ শূন্য পদে স্বচ্ছ নিয়োগ-সহ নানা দাবিতে ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের হাজরা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পথেই লিন্ডসে স্ট্রিটে ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। তা নিয়ে আন্দোলনকারী-পুলিশ টানাপড়েন শুরু হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৫
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ২৫% অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা এখনও কার্যকর না-হওয়ায় ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ভোটের মুখে রাজ্য সরকারের উপরে বকেয়া ডিএ চেয়ে আরও চাপ বাড়াতে বৃহস্পতিবার ‘কালীঘাট চলো’ কর্মসূচি নিল মঞ্চ। সঙ্গে ছিল কো-অর্ডিনেশন কমিটি, এবিটিএ, এবিপিটিএ-সহ সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশি ‘বাধা’, টানা অবস্থানের জেরে দীর্ঘ ক্ষণ থমকে রইল শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা চত্বর। একই দাবিতে ১৩ মার্চ রাজ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দফতরে ধর্মঘটের ডাকও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজার স্বরও চড়েছে।

ডিএ নিয়ে সুপ্রিম-নির্দেশ মানা, ছ’লক্ষ শূন্য পদে স্বচ্ছ নিয়োগ-সহ নানা দাবিতে ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের হাজরা হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পথেই লিন্ডসে স্ট্রিটে ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। তা নিয়ে আন্দোলনকারী-পুলিশ টানাপড়েন শুরু হয়। কলকাতা পুলিশের ডিসি(সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “আপনারা কথা বলতে চাইলে বলুন। কিন্তু ব্যারিকেড খোলার অনুমতি দিতে পারব না। ওঁরা হাজরা যেতে চেয়েছিলেন, সেটা সম্ভব নয়।”

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরাও অনড় থেকে ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবরোধ শুরু করেন। যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, “আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যসচিবকে আসতে হবে। প্রশাসনিক সব নিয়ম মেনে কোন পথে মিছিল যাবে, তা আগেই জানানো হয়েছে। সব পক্ষ আজ দাবি আদায়ের জন্য এক হয়েছে।” তাঁর কটাক্ষ, “পশ্চিমবঙ্গে আদালতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা চলে কালীঘাট আর নবান্ন থেকে! দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে এখানে যাতে মান্যতা দেওয়া হয়, সেই লক্ষ্যে পথে নেমেছি।” সরকারি কর্মীদের অবস্থানের জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থমকে যায় ধর্মতলা। আটকে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ নানা যানবাহন। পুলিশ বিকল্প পথে যানবাহনের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেয়।

শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজাও। বিরোধীদের নিশানা করে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার দফায় দফায় ডিএ বাড়িয়েছে। বহু রাজ্য আছে, যারা ডিএ দেয়, পেনশন দেয় না। এখানে দু’টোই দেওয়া হয়।” কুণালের সংযোজন, “সিপিএম ও বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা এক বারও কি বলেছেন, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া মেটানো হোক? আসলে ভোট এলে, কিছু মুখোশধারী সংগঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেমে পড়ে।”

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর পাল্টা বক্তব্য, “সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ-র টাকা লুট করছে রাজ্য সরকার। অন্তত দু’লক্ষ কোটি টাকা এই ভাবে লুট করেছে। এখন লুটের জন্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আদালত অবমাননা করছে সরকার।” রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের প্রশ্ন, “সুপ্রিম কোর্ট-সহ সাংবিধানিক কোনও প্রতিষ্ঠানেরই মর্যাদা পশ্চিমবঙ্গে আছে কি? একটাই আন্দোলন জরুরি, এই সরকারটাকে সরানো। আমরা সরকারে এলে, কেন্দ্রের সমতুল্য ডিএ দেওয়া হবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন