প্রতীকী ছবি।
করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া—দু’জেলাতেই বাড়ছে। মঙ্গলবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, বাঁকুড়া জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ‘হাফ সেঞ্চুরি’ ছাড়িয়ে গেল। বাঁকুড়া জেলায় আরও ১৩ জন আক্রান্ত হওয়ায় মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬। তবে জেলায় এখন সক্রিয় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এ দিনের বুলেটিনে প্রকাশ, পুরুলিয়া জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯। যার মধ্যে নতুন করে দু’জন আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ দিন সন্ধ্যায় পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন করে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন জেলায়। সব মিলিয়ে জেলায় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮।
আগে পুরুলিয়া জেলার সাত জন আক্রান্ত ছিলেন। আক্রান্তেরা বলরামপুর, বাঘমুণ্ডি, আড়শা ও পুরুলিয়া ১ ব্লক এলাকার বাসিন্দা বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর জানান, মঙ্গলবার আরও ১১ জনের সংক্রমণের রিপোর্ট মিলেছে। সব মিলিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ১৮ জন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। মহারাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন।
তবে বাঁকুড়া জেলায় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চললেও জেলা প্রশাসন, তাঁরা কোন ব্লকের বাসিন্দা তা স্পষ্ট করেনি। এ দিন সন্ধ্যায় বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্য জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, “আক্রান্তদের তথ্য আমি এখনও পাইনি।” বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সোরেন বলেন, “করোনা আক্রান্তদের তথ্য নিয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ এখনও ছড়ায়নি। যে সব এলাকায় করোনা-আক্রান্ত রোগী মিলছে, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” বাঁকুড়ার জেলা প্রশাসনের কর্তারাও এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
পুরুলিয়া জেলায় প্রথম করোনা-সংক্রমণের খবর মিলেছিল রঘুনাথপুর ১ ব্লকে। তারপর গত শনিবার পুরুলিয়া ২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আরও ছ’জনের সংক্রমণ ধরা পড়ে। মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়া ১ ব্লকের ডুঁড়কু পঞ্চায়েত এলাকার দু’টি গ্রামে দু’জনের নমুনায় সংক্রমণের হদিস মেলে। ওই দু’জনে ১৯ মে মহারাষ্ট্র থেকে ফেরেন। প্রশাসন ও পুলিশ ওই দু’টি গ্রামে গিয়ে কনটেনমেন্ট জ়োন ও বাফার জ়োন তৈরি করে।
এ দিন বিকেলে আরও ৯ জনের ‘পজ়িটিভ রিপোর্ট’ এসে পৌঁছয় পুরুলিয়া জেলায়। সেই সব গ্রামেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
এ দিকে, ইতিপূর্বে করোনা-আক্রান্ত পুরুলিয়া ২ ব্লকের চার জনকে চিকিৎসার পরে, এ দিন বিকেলে গ্রামে ফেরাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। গত শনিবার তাঁদের ‘করোনা-পজ়িটিভ’ রিপোর্ট আসার পরে, গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক ‘কোয়রান্টিন সেন্টার’ থেকে নিয়ে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ দিন পর্যন্ত তাঁদের কোনও উপসর্গ না থাকায় এবং লালরসের নমুনা সংগ্রহের পরে ১৪ দিন পার হওয়ায় সরকারি নির্দেশ মতো, তাঁদের ‘হোম কোয়রান্টিন’-এর জন্য বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
সমস্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিডিও (পুরুলিয়া ২) বিজয় গিরি। তিনি বলেন, ‘‘বাসিন্দাদের দাবি, উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের গ্রামকে গণ্ডিবদ্ধ রাখা হবে? গ্রামবাসীকে বোঝানো হয়, গ্রামবাসীর স্বাস্থ্যের স্বার্থেই গ্রামে কিছু বিধিনিষেধ কিছু দিন থাকবে। তার পরে ওই চার জনকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।’’