Bankura

বাঁকুড়ায় খাবারের বিষক্রিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই, তদন্তে পুলিশ

বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার ফুটিডাঙা গ্রামের পেশায় জনমজুর বাদল সোরেন, তাঁর স্ত্রী চম্পা সোরেন এবং তাঁদের দুই ছেলে বীরেন্দ্রনাথ ও বিধান গত বুধবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৩ ১৭:১৩
Share:

—ফাইল চিত্র।

খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার ফুটিডাঙা গ্রামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই। এখনও দু’জনের চিকিৎসা চলছে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। অসুস্থ ও মৃত সকলেই একই পরিবারের সদস্য। খাবারে বিষক্রিয়ার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে কোতুলপুর থানার পুলিশ। সংগ্রহ করা হয়েছে খাবারের নমুনাও।

Advertisement

বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার ফুটিডাঙা গ্রামের পেশায় জনমজুর বাদল সোরেন, তাঁর স্ত্রী চম্পা সোরেন এবং তাঁদের দুই ছেলে বীরেন্দ্রনাথ ও বিধান গত বুধবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পেটে ব্যথা, বারবার বমির উপসর্গ দেখা দিলে ওই দিনই তাঁদের চার জনকে গোগড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার চার জনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিষ্ণুপুরে স্থানান্তর করার পথেই মৃত্যু হয় বাদল ও চম্পা সোরেনের ছোট ছেলে বাদল সোরেনের (১২)। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চম্পা সোরেন ও বড় ছেলে বীরেন্দ্রনাথ সোরেনকে সিসিইউ-তে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করেন বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, সিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যায় বড় ছেলে বীরেন্দ্রনাথ সোরেন (১৭)।

পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরে রান্না করা ভাতের একাংশ রাতের জন্য বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন চম্পা সোরেন। মাঠে কাজ সেরে সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরে দুপুরের রান্না করা ভাত ওই দম্পতি নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি স্কুলফেরত দুই ছেলেকেও খাইয়েছিলেন তাঁরা। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ও সোরেন পরিবারের ধারণা, ওই ভাত থেকেই কোনও বিষক্রিয়া ঘটে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে পরিবারের চার জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু খাবারে কী ভাবে বিষক্রিয়া হল, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাদল সোরেনের আত্মীয়েরা। বাদল সোরেনের আত্মীয় বিষ্ণু সোরেন বলেন, ‘‘কী ভাবে খাবারে বিষক্রিয়া হল, তা বুঝতে পারছি না। দুই ছেলে চলে গেল। স্ত্রীও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। প্রায় গোটা পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল। আমরা চাই, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য ঘটনা সামনে আসুক।’’ আর এক আত্মীয় উত্তম টুডু বলেন, ‘‘গোটা পরিবারটাই এখন চিকিৎসাধীন। তাই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা এখনও সম্ভব হয়নি। আমাদেত আশঙ্কা, কেউ বা কারা খাবারে বিষ মিশিয়ে এ ভাবে গোটা পরিবারটাকে শেষ করে দিল। আমরা এর প্রকৃত তদন্ত চাই।’’

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ‘‘ঘটনাটি আমাদের নজরে আছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা খাবারে বিষক্রিয়ার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিষক্রিয়ার কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই ওই বাড়ি থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement