—প্রতীকী চিত্র।
বর্ষবরণের রাতে মদের আসরে বন্ধু-পত্নীর নামে কটূক্তিকে ঘিরে মারামারি থেকে রহস্য-মৃত্যু! শুক্রবার ব্যারাকপুর কমিশনারেটের টিটাগড় থানা এলাকার বাসিন্দা বিজয় দাসের (৩০) রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল তাঁরই শোয়ার ঘর থেকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী সুমন বিশ্বাস ও এলাকারই কয়েক জনের সঙ্গে মদের আসরে বসেছিলেন রঙের মিস্ত্রি বিজয়। অভিযোগ, সেখানেই বিজয়ের স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে কটূক্তি করে সুমন। বাদানুবাদ থেকে হাতাহাতি হয়। বাকিরা তখনকার মতো মিটিয়ে দিলেও সুমনের সঙ্গী কয়েক জন বিজয়ের বাড়িতে চড়াও হয়। প্রতিবেশীরা জানান, হই-হল্লা করে তারা ফিরে গেলেও রাতে ফের বিজয় সুমনের বাড়িতে চড়াও হন। সুমনকে গালিগালাজ করে ডাকাডাকি করতে থাকায় দরজা খুলে বেরিয়ে সুমন বিজয়কে মারধর করে ও রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে তাঁর মাথায় মারে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েক জন জানান।
ইটের ঘায়ে জখম বিজয় রক্তাক্ত অবস্থাতেই বাড়ি ফিরে যান বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাত্রাতিরিক্ত নেশার পরে নাগাড়ে রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয়েছে বিজয়ের। স্ত্রী পাপিয়া দাস আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে তালপুকুর বস্তিতে বাবা-মায়ের কাছে ছিলেন। বিজয়ের মা পরিচারিকার কাজ করেন। শুক্রবার সকালে কাজ থেকে বাড়িতে ফিরে ছেলের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন, বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে বিজয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে ব্যারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান।
বিজয়ের স্ত্রী পাপিয়া বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক জন বন্ধুকে নিয়ে মদের আসর বসেছিল। সুমন ফোন করে ডাকায় সেখানে বিজয় যায়। সুমন, গুল্লু, শ্যামল-সহ আরও কয়েক জন ছিল। সেখানে আমাকে নিয়ে সুমন খারাপ কিছু বলেছিল। প্রতিবাদ করায় এ ভাবে খুন করা হল বিজয়কে।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয়েরা জানান, এর আগেও বেশ কয়েক বার বিজয়ের সঙ্গে সুমনের ঝগড়া হয়েছে পাপিয়াকে নিয়ে। পরে আবার তা মিটেও গিয়েছিল। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝা বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এটি খুনের ঘটনা। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে