আরও একটি কয়লা পরিশোধন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাঁওতালডিহিতে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিসিসিএল ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে সোমবার ওই কোল ওয়াশারি নির্মাণের ব্যাপারে পরিবেশ সংক্রান্ত গণশুনানি হয়ে গেল সাঁওতালডিহিতে। উপস্থিত ছিলেন বিসিসিএলের পূর্বাঞ্চলীয় কোল ওয়াশারি জোনের জিএম মেহমুদ আলম, পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) প্রবালকান্তি মাইতি, পাড়ার বিধায়ক উমাপদ বাউরি প্রমুখ।
বর্তমানে কয়লার গুণগত মান কমেছে। কাঁচা কয়লাতে শতাংশের নিরিখে বেড়েছে ছাইয়ের মাত্রা। পুরনো কয়লা পরিশোধন কেন্দ্রের প্রযুক্তি এই কয়লা পরিশোধনের পক্ষে উপযুক্ত নয়। তাই সাঁওতালডিহিতে আরও একটি নতুন কয়লা পরিশোধন কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিসিসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪২.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কোল ওয়াশারিতে কয়লা পরিশোধনে আধুনিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বছরে দুই মিলিয়ন টন কয়লা পরিশোধন করা হবে এখানে। সংস্থার দাবি, এই প্রকল্পে আধুনিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করায় দূষণ নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যেই থাকবে।
বিসিসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক আগে ভোজুডি কোল ওয়াশারিতে কয়লা পরিশোধনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু সেখানকার যন্ত্র আধুনিক মানের না হওয়ায় বর্তমানে যে মানের কয়লা মিলছে তা পরিশোধন সম্ভবপর হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে এই কোল ওয়াশারিতে। ভোজুডি কোল ওয়াশারির প্রজেক্ট অফিসার বিভাসচন্দ্র ঝা জানান, বর্তমানে কাঁচা কয়লার গুণগত মান কমছে। পুরনো কেল ওয়াশারির মধ্যেই ১৫ হেক্টর জমিতে নতুন আরও একটি কোল ওয়াশারি তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিসিসিএল ঝাড়খণ্ড ও এই রাজ্য মিলিয়ে মোট ছ’টি নতুন কোল ওয়াশারি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই মধ্যে একটি হচ্ছে সাঁওতালডিহিতে। প্রসঙ্গত এই কোল ওয়াশারি থেকে কাঁচা কয়লা পরিশোধনের পরে তিন ধরনের কয়লা পাওয়া যায়। সবচেয়ে উন্নত মানের কয়লা পাঠানো হয় ইস্পাত কারখানায়, মাঝারি মানের কয়লা যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। আর নিম্নমানের কয়লা স্থানীয় ভাবে বিক্রি হয় ইটভাটা-সহ ছোট কলকারখানায়।
পুরুলিয়ার অন্যতম এই শিল্পাঞ্চলে আরও একটি নতুন সরকারি ভারি শিল্প তৈরির সলতে পাকানোর কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়ন ঘটবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দিন গণশুনানিতে সেই দিকটা উঠে এসেছে। ইছড় গ্রামের যুবক তারিণী সিংহ বলেন, ‘‘আরও একটি নতুন সরকারি ভারি শিল্প তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন ঘটবে বলেই আশাবাদী আমরা। এই প্রকল্পকে স্বাগত জানাচ্ছি আমরা।” তবে পাশাপাশি সিএসআর প্রকল্পে বিসিসিএলকে এলাকায় সামাজিক উন্নয়নের কাজ করার দাবিও এ দিন উঠেছে।
শশাঙ্কশেখর মাজির মতো অনেকেই নতুন প্রকল্পে দূষণের মাত্রা কম করার দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘পুরনো ভোজুডি কোল ওয়াশারি থেকে দূষণ ছড়ানোয় তার প্রভাব পড়েছে এলাকার জলাশয় থেকে শুরু করে চাষাবাদে। ভারি গাড়ির যাতায়াতে রাস্তাঘাটও খারাপ হয়েছে। নতুন প্রকল্পের সঙ্গে এই দিকগুলো দেখতে হবে বিসিসিএলকে।” শুনানিতে এ বার নতুন প্রকল্পের নামকরণ সাঁওতালডিহি কোল ওয়াশারি করার দাবি তুলেছেন এলাকার যুব তৃণমূল নেতা স্বপন মেহেতা। বিসিসিএল জানিয়েছে, এ দিনের গণশুনানিতে উঠে আসা বক্তব্য কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রকে পাঠানো হবে।