—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নির্বাচনের মানেই প্রচার। ভোটের সময়ে সাধারণত আকাশ পথেই প্রচারে আসেন প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও তারকা প্রচারকেরা। এ বার ভোটের আগে বীরভূম জেলার কোথায় কোথায় হেলিপ্যাড রয়েছে বা আর কোথায় করা যেতে পারে, তার তালিকা চেয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। জেলা থেকে প্রাথমিক ভাবে সেই তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কর্তা থেকে মন্ত্রী ও তারকা প্রচারকদের হেলিকপ্টার কোথায় নামতে পারে, জেলায় তেমন ৫০টি মাঠ চিহ্নিত হয়েছে। যে মাঠগুলিকে হেলিকপ্টার ওঠা-নামার জন্য ব্যবহার করা যাবে, তার সম্পূর্ণ তথ্য কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘এটাই চূড়ান্ত তালিকা নয়। এই সংখ্যা বাড়বে।’’ তাঁর সংযোজন, ওই ৫০টির বাইরে যে কোনও রাজনৈতিক দল তাদের পছন্দের সভাস্থলের কাছাকাছি কোনও মাঠেহেলিপ্যাড করার জন্য আবেদন করতে পারে। তবে, সেটি অনুমোদনযোগ্য হবে কি না, তা বোঝা যাবে যাচাই পর্বের পরে। পুলিশ, পূর্ত দফতর এবং দমকল, এই তিন বিভাগ প্রস্তাবিত মাঠটি সরেজমিন খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলে তবেই প্রশাসন থেকে ‘নো-অবজেকশন’ রিপোর্ট দেওয়া হবে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়নি। কিন্তু, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও প্রস্তুতি চলছে। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন পর্ব পার করতে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। জানা গিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে হেলিকপ্টার নামার জন্য প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত হয়েছিল ৪৭টি মাঠ। পরে সে সংখ্যায় বদল আসে।
জেলা প্রশাসনের খবর, অতীতে কোন ব্লকের কোন কোন মাঠ রাজনৈতিক দলের জনসভা, মিছিল ও কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং কোন কোন মাঠ হেলিকপ্টার ওঠা-নামার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রতিটি ব্লকের বিডিও-র কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই হেলিপ্যাড কোথায় করা যায়, তা চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ-প্রশাসন।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, তত রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়বে। নেতা-নেত্রীদের আনাগোনা বাড়বে। রাজনৈতিক দলগুলির আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট মাঠে প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে একই ব্লকে শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সভা বা কর্মসূচি থাকলে, তখনই সমস্যার তৈরি হয়। বিশেষ করে বিরোধী দল পছন্দমাফিক জায়গা পাবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয় থাকে। না পেলে তাদের তরফে অভিযোগের আঙুল তোলা হয় পুলিশ-প্রশাসনের দিকে। সেই পরিস্থিতি এড়াতে হেলিপ্যাডের মাঠ চিহ্নিত করার আগাম প্রস্তুতি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে