মৃত শিশুকে কোলে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। নিজস্ব চিত্র।
রোটা ভাইরাস এর প্রতিষেধক-সহ স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া চারটি প্রতিষেধক বুধবার দেওয়া হয়েছিল দেড় মাসের শিশুকে। তার পরে, জ্বর আসে তার। পরিবারের দাবি, জ্বরের ওষুধ দেওয়া হলেও শুক্রবান সকালে মারা যায় পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার রায়বাঁধ গ্রামের সোনালি হেমব্রম।
পরে, রায়বাঁধ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখান সোনালির পরিবারের সদস্য ও পড়শিরা। ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠে। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। টিকার কারণেই সোনালির মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছে পরিবারটি। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, টিকা দেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে তারা মনে করছে না। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিলকুমার দত্তের কথায়, ‘‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। তবে টিকার কারণে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।’’
গত বুধবার রায়বাঁধ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয় সোনালি-সহ রায়বাঁধ গ্রামের অনেক শিশুকে। সোনালির বাবা অশোক হেমব্রমের অভিযোগ, ‘‘এ দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, মেয়ে মারা গিয়েছে। টিকার কারণেই ওর মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ।” শিশুর দেহের ময়না-তদন্ত করাতে প্রথমে রাজি হয়নি পরিবারটি। পরে, তাদের বুঝিয়ে দেহ হেফাজতে নেয় পুলিশ। আজ, শনিবার ময়না-তদন্ত হবে।
যে স্বাস্থ্যকর্মী সোনালিকে টিকা দিয়েছিলেন, তাঁর দাবি, ‘‘বাচ্চাটাকে যে ভায়াল থেকে টিকা দেওয়া হয়েছিল, একই ভায়াল থেকে টিকা দেওয়া হয় আরও ন’জন শিশুকে। তাদের কারও কোনও সমস্যা হয়নি।” ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার সোমশুভ্র চৌধুরী বলেন, ‘‘বড় কোনও উপসর্গ হওয়ার থাকলে তা হয় টিকা নেওয়ার দু’-তিন ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। শিশুটির বড় কোনও উপসর্গ দেখা দেয়নি। মৃত্যুও হয়েছে টিকা দেওয়ার দু’দিন পরে। মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। তবে এটা বোঝা যাচ্ছে, টিকার কারণে মৃত্যু হয়নি। অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে।”