শনিবার বাপির ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত বাপি সেন (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত।
এক তরুণীর হেনস্থা রুখতে গিয়ে পুলিশকর্মীদেরই মারে নিহত পুলিশকর্মী বাপি সেনের ছেলেকে বেহালা থেকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। শনিবার বেহালার পর্ণশ্রী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাপির ছেলেকে। সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লিতে। গত ডিসেম্বর মাসে বিনিয়োগের নাম করে সাইবার প্রতারণার জালে ফাঁসিয়ে অন্যের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি মামলা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে নেমে বাপির ছেলের খোঁজ পায় দিল্লি পুলিশ। জানা যায়, খোয়া যাওয়া টাকা যে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, কলকাতায় বসে নাকি সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন বাপির ছেলে! এর পরেই শনিবার তাঁদের বেহালার বাড়িতে হানা দেয় পুলিশের একটি দল। জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি মেলায় পরে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। তবে বিচারকের নির্দেশ, দিল্লির আদালতে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে বাপি সেনের ছেলেকে।
২০০২ সালে বর্ষবরণের রাতে মধ্য কলকাতায় মত্ত পুলিশকর্মীদের হাত থেকে এক তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে মার খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল বাপির। সে সময় কলকাতা পুলিশে সার্জেন্ট পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। অভিযোগ, বর্ষবরণের রাতে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন কলকাতা পুলিশের রিজ়ার্ভ ফোর্সের কয়েক জন কর্মী। বাধা দিতে গেলে সাদা পোশাকে থাকা বাপিকে বেধড়ক মারধর করেন তাঁরা। ছ’দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি মৃত্যু হয় বাপির। দু’দশক আগের সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও ভোলেনি কলকাতা। সে সময় বাপির দুই সন্তান সোমশুভ্র ও শঙ্খশুভ্র ছিল নেহাতই শিশু।