জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। ফাইল চিত্র।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি এখনও। তবে, জেলায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে, মুরারই ২ ব্লকে শাসকদলের সভাপতি আফতাবউদ্দিন মল্লিকের (মন্টু) মৃত্যুর পরে দলীয় সংগঠনে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। তার উপরে এলাকায় প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে এমআইএম। এই পরিস্থিতি সংগঠন সামলাতে ব্লকে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করে দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল।
মুরারই ২ ব্লকের ৬টি অঞ্চল মুরারই বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। গত জানুয়ারিতে মারা গিয়েছেন ব্লক সভাপতি আফতাবউদ্দিন। তার পরে নতুন করে কাউকে সভাপতি করা হয়নি। গত ২২ তারিখ মুরারই ২ এলাকার সাত জন সদস্যকে বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ে ডাকেন বীরভূম কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ও অন্যান্য নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তিনি সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটিতে নাম আছে সৌমেন মুখোপাধ্যায়, নুরুল আলম মোল্লা, এহিয়া খান, আব্দুল ওয়াদুদ, সুনীল রবিদাস, মফিজুল শেখ ও মোকাম্মেল হোসেনের। এই কমিটিই ভোটের আগে সংগঠন মজবুত করার কাজ করবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন অনুব্রত।
কমিটি গঠনকে কটাক্ষ করেছে বিজেপিও। দলের জেলা কমিটির সদস্য অরিন দত্ত বলেন, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে বীরভূমের বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের যা অবস্থা, তাতে দল টিকিয়ে রাখতে হলে কোর কমিটি ছাড়া কোনও উপায় নেই।”
সাংগঠনিক ‘দুর্বলতার’ সুযোগে মুরারই এলাকায় ক্রমশ মজবুত হচ্ছে এমআইএম বলে জানাচ্ছেন এলাকারই তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। ইতিমধ্যেই সংগঠন শক্তিশালী করতে নানা অঞ্চলে দলীয় কার্যালয় তৈরি শুরু হয়েছে। এমআইএমের জেলা সহ সভাপতি মহম্মদ তাসেরের দাবি, “মন্টু মল্লিক মারা যাওয়ার পরে আরও যোগ্য ব্যক্তিকে ব্লক সভাপতি করা যেত। কিন্তু, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে করার জায়গায় নেই তৃণমূল। দ্বিতীয় ব্লক সভাপতি করার সাহসই হচ্ছে না, সেখানে নির্বাচন কমিটি করা হয়েছে! তবে, এ বার তৃণমূলের জেতা অসম্ভব। মানুষ এমআইএম-কে চাইছেন।”
পাল্টা মুরারই ২ ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের সঙ্গে থাকি। যারা পারিযায়ী দল, যাদের শুধু ভোটের সময়ে দেখা যায়, যারা বাংলার ভোটকে ভাগ করতে চায়, যারা দিল্লির জমিদারদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তাদের চেষ্টা সফল হবে না। আমরা আশাবাদী, মুরারই ২ ব্লকে এ বার ভাল ফল হবে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে