Birbhum Death Row

স্বামী-স্ত্রীর নাম বিবেচনাধীন, ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু আঠাশের যুবকের! এসআইআরকে দুষছে পরিবার এবং তৃণমূল, শোরগোল

কামরুল শেখ পেশায় ঠিকাশ্রমিক। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী রয়েছেন। আছে দুই নাবালক সন্তান। বাড়ির মূল উপার্জনকারী ওই যুবক। পরিবারের দাবি, রবিবার সরকারি অফিস থেকে নিজের নামের উপর বিবেচনাধীন লেখা দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৪:০২
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে লেখা ‘বিবেচনাধীন’। স্ত্রীর-ও তা-ই। তালিকা দেখে বাড়ি ফিরেই ২৮ বছরের শেখ কামরুল বলেছিলেন, ‘‘শরীর খারাপ লাগছে। প্রচণ্ড মাথাযন্ত্রণা।’’ শারীরিক পরিস্থিতি দেখে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল পরিবার। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর বীরভূমের সিউড়ির আলুন্দা পঞ্চায়েতের ধল্লা গ্রামে।

Advertisement

কামরুল পেশায় ঠিকাশ্রমিক। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী রয়েছেন। আছে দুই নাবালক সন্তান। বাড়ির মূল উপার্জনকারী ওই যুবক। পরিবারের দাবি, রবিবার সরকারি অফিস থেকে নিজের নামের উপর বিবেচনাধীন লেখা দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তার পর পরিচিত, বন্ধুবান্ধবের কথায় চিন্তা বাড়ে। এর পর কী হবে, সেই দুশ্চিন্তা নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন কামরুল। যুবকের মায়ের দাবি, কর্মহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন পুত্র। বাড়ি ফিরে বলেছিলেন, মাথাযন্ত্রণা করছে। জানজাহারা বিবির অভিযোগ, ‘‘এসআইআরের কারণে অনেক দিন ধরে চাপে ছিল ছেলে। মাথাব্যথায় ভুগছিল ও। রবিবার রাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ডাক্তার বললেন, স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে। তিনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বর্ধমান নিয়ে যাওয়ার আগে সব শেষ।’’ হাহাকার করে ওঠেন প্রৌঢ়া।

তৃণমূলের দাবি, এসআইআরের আতঙ্কেই মৃত্যু হয়েছে ২৮ বছরের যুবকের। বিজেপি এবং কমিশনকে তোপ দেগেছে তারা। সিউড়ি-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আরিফ হোসেন বাপ্পা মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি বলেন, ‘‘এই ধল্লা গ্রামে ২৩০ জনের নাম বিবেচনাধীন। এঁরা সকলে আতঙ্কিত। একটি কর্মঠ যুবক মারা গেলেন! এর দায় কমিশন, বিজেপি এড়াতে পারে না।’’ তিনি জানান, তাঁদের দল মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে। কামরুলের বাবা প্রতিবন্ধী। দুই সন্তানই নাবালক। এই অবস্থায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

Advertisement

অন্য দিকে, বিজেপির কটাক্ষ, অসুস্থ হয়ে কারও মৃত্যু হলে তা এসআইআরের কারণে বলে অভিযোগ করা তৃণমূলের অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার মন্তব্য, ‘‘এ সব নিয়ে আর কিছু বলার নেই। মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু এ নিয়ে রাজনীতি আরও দুঃখজনক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement