প্রতীকী ছবি।
জেলায় দলের দায়িত্বে যুব প্রজন্মকে এনে বাঁকুড়ায় চমক দিল বিজেপি। দল সূত্রে খবর, নিয়মমাফিক বদলের প্রথা মেনে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রানিবাঁধের বাসিন্দা, বছর বত্রিশের সুনীল রুদ্র মণ্ডলকে। বিবেকানন্দ পাত্রের জায়গায় এসেছেন তিনি। এ দিকে, সুজিত অগস্তিকে সরিয়ে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন বাঁকুড়া আদালতের আইনজীবী, গঙ্গাজলঘাটির ভৈরবপুরের বাসিন্দা বছর একচল্লিশের বিল্লেশ্বর সিংহ।
২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় থেকে, জেলায় বিজেপির রাজনৈতিক পরিসর বাড়তে শুরু করেছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে জেলার দু’টি কেন্দ্র, বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর বড় জয় পায় বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফল খারাপ হলেও জেলার ১২টির মধ্যে আটটি আসনে জয় পেয়েছে দল।
এ পরিস্থিতিতে জেলায় দলের সাফল্যকে আগামী দিনেও বজায় রাখা মূল লক্ষ্য, জানাচ্ছেন সদ্য দায়িত্ব পাওয়া দুই সভাপতি। সুনীলের কথায়, “রাজ্য সরকারের কাজকর্মে যুব সম্প্রদায় হতাশ। তাঁদের সমস্যা তুলে ধরতে হবে। কৃষি থেকে শিল্প, সব ক্ষেত্রে নানা সমস্যা চলছে। সব স্তরের মানুষের অসুবিধা মেটাতে আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ করবে দল।” বিল্লেশ্বরও বলেন, “দল অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। সামগ্রিক ভাবে সংগঠনকে মজবুত করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য হবে।”
তবে বিবেকানন্দের ‘ঘনিষ্ঠ’ সুনীল সভাপতির দায়িত্ব আসার পরে, তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজন আড়ালে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। দলীয় রাজনীতিতে বিবেকানন্দের বিরোধী শিবিরের বলে পরিচিত এক বিজেপি নেতার অভিযোগ, “সুনীল বিবেকানন্দের ঘনিষ্ঠ হওয়াতেই তাঁকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে দলে কিছু লোকজন প্রভাব খাটিয়ে স্বেচ্ছাচার করে চলেছেন।”
বিবেকানন্দের অবশ্য দাবি, “জেলা সভাপতি নির্বাচন সম্পূর্ণ ভাবে রাজ্যের সিদ্ধান্ত। দল যাঁকে যোগ্য মনে করবে, তাঁকে বেছে নেবে।” তাঁর সংযোজন, “সুনীল দু’বছর আগে যুব মোর্চার জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান। ভাল সংগঠন গড়ে, নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তা-ই হয়তো রাজ্য নেতৃত্বের নজরে পড়েছেন।” বিল্লেশ্বরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুজিত বলেন, “আগামী দিনে সংগঠন গড়ে তুলতে দল যেমন দায়িত্ব দেবে, তা পালন করব।”
পুরুলিয়ায় বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর পরে, এত দিন দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ সামলানো বিবেক রঙ্গার হাতে জেলা সভাপতির ব্যাটন তুলে দিয়েছে দল। বিদ্যাসাগর হয়েছেন দলের পুরুলিয়া বিভাগের আহ্বায়ক। সভাপতির পদ পাওয়ার পরে, বিবেক এ দিন বলেন, “নেতৃত্ব গুরু দায়িত্ব দিয়েছে। পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”
বিদ্যাসাগরের কার্যকাল পেরনোর পরে, নতুন সভাপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা ছিল যথেষ্ট। সূত্রের খবর, সভাপতি পদের দাবিদার ছিলেন দলের ওবিসি মোর্চার জেলা সভাপতি সুভাষ মাহাতো। লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া আসনে প্রার্থী হিসাবে সুভাষের নাম উঠলেও টিকিট পান জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো। এ ছাড়া, জেলায় বিজেপির বিধায়কদের একাংশ দলের নেতৃত্বের কাছে সভাপতি হিসাবে জয়পুরের বিধায়ক নরহরি মাহাতোর নামও প্রস্তাব করেছিলেন বলে সূত্রের দাবি।
তবে বিবেকের সভাপতির পদে আসা অপ্রত্যাশিতও নয়, মত বিজেপির নেতাদের বড় অংশের। তাঁদের মতে, দক্ষ সংগঠক বিবেকের দলের সব স্তরের কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ২০১৬-য় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে, জেলায় দলের সংগঠনের বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন বিবেক। পঞ্চায়েত, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে দেওয়া দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে এসেছিলেন।
দলেরই একটি সূত্রের আরও দাবি, বিবেক বরাবরই পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতোর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আছেন। অতীতে দু’জন এক সঙ্গে জেলায় যুব মোর্চার দায়িত্বও সামলেছেন। তাই বিবেকের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে সাংসদের ভূমিকা থাকতেই পারে।
তবে জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, লোকসভা ও বিধানসভায় বিজেপি পুরুলিয়ায় বিরাট সাফল্য পেলেও, এখন একের পরে এক পঞ্চায়েত তাদের হাতছাড়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দলকে অটুট রাখা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হতে পারে নতুন সভাপতির কাছে। তবে বিবেকের দাবি, “পঞ্চায়েতের কিছু জনপ্রতিনিধি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে কর্মীরা দলের আর্দশ নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরুলিয়ায় বিজেপির সংগঠন অটুট আছে।”