Kankalitala Temple

কঙ্কালীতলায় বিধর্মীদের প্রবেশ নিষেধ! দুধ-গঙ্গাজল দিয়ে বোলপুরের মন্দির শুদ্ধকরণ করে হোর্ডিং টাঙাল বিজেপি

মঙ্গলবার সকালে দুধ এবং গঙ্গাজল নিয়ে বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা কঙ্কালীতলায় গিয়েছিলেন। কয়েক জনের হাতে ছিল গেরুয়া ধ্বজা। তাঁরা জানান, মন্দিরের পবিত্রতা এবং পুরনো আচার-অনুশাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বিশেষ পুজো ও শুদ্ধকরণ’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৫:০০
Share:

কঙ্কালীতলা মন্দিরের সামনে হোর্ডিং হাতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা। —নিজস্ব চিত্র।

বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মঙ্গলবার এমনই নিয়ম জারির কথা জানিয়ে মন্দির চত্বরে যান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পুরোহিতের সঙ্গে কথাবার্তার পর মন্দিরের সামনে একটি হোর্ডিং টাঙিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। উপরে লেখা, ‘‘জয় মা কঙ্কালী। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ব্যতীত বিধর্মীদের মন্দিরে প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।’’ এই ‘ধর্মীয় উদ্যোগ’ নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

Advertisement

মঙ্গলবার সকালে দুধ এবং গঙ্গাজল নিয়ে বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা কঙ্কালীতলায় গিয়েছিলেন। কয়েক জনের হাতে ছিল গেরুয়া ধ্বজা। তাঁরা জানান, মন্দিরের পবিত্রতা এবং পুরনো আচার-অনুশাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বিশেষ পুজো ও শুদ্ধকরণ’ কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। দুধ, গঙ্গাজল দিয়ে পুরো মন্দির শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার পর বিজেপি নেতারা জানান, মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং ধর্মীয় মর্যাদা অটুট রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

সেবায়েতদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে মন্দির ট্রাস্টের অর্থ নিয়ে নানা অনিয়ম চলছিল। পঞ্চায়েতের তরফে টাকা তোলা হত। সে সবের তদন্ত হবে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা পুরোহিতদের বলেন, “এখন থেকে মন্দিরে কোনও বিধর্মী মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন না, পুজো দিতে পারবেন না। হিন্দু ছাড়া কেউ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন না।” তার পর ঠিক ওই নির্দেশিকা সংবলিত একটি হোর্ডিং সাঁটানো হয় মন্দিরের গেটে।

Advertisement

বিজেপির বক্তব্য, সেবায়েতদের সঙ্গে বৈঠক করে মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও ধর্মীয় নিয়ম কঠোর ভাবে মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মন্দিরে প্রবেশ এবং পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাচীন ধর্মীয় বিধি মেনে চলতেই হবে। গর্ভগৃহে প্রবেশ এবং পুজোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, মন্দিরের ঐতিহ্য এবং শাস্ত্রসম্মত নিয়ম বজায় রাখার জন্য কড়াকড়ি বাড়ছে।

অন্য দিকে, কঙ্কালীতলার এক সেবায়েতের অভিযোগ, তিনি নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী খোকন দাসের সমর্থনে পুজো দেওয়ার পরে হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক কারণে ভয় দেখানো হয়েছিল আমাকে। এখন অবশ্য সব স্বাভাবিক।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement