বীরভূম-পূর্ব বর্ধমান সীমানার ফুটিসাঁকোয়, মঙ্গলবার সারাদিন ধরে চলল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং নাকা তল্লাশি। ছবি: কল্যাণ আচার্য।
গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে যে কটি জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, সেই তালিকায় উপরের দিকেই ছিল বীরভূম। এ বার ফল প্রকাশের পর যেন তেমন কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, জেলার প্রতিটি থানার ওসিদের কাছে নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে, এমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হলে তা যেন শুরুতেই দমিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এমন কোনও তথ্য পেতে গ্রামীণ পুলিশ ও নিজস্ব স্থানীয় সূত্রকে সক্রিয় ভাবে কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তো জেলায় থাকছেনই। প্রয়োজনে তাঁদের ডাকা এবং এলাকার সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে সচেতনও করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে কোথায় ঝামেলা হয়েছে, কোন কোন এলাকা স্পর্শকাতর তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কোন এলাকায় ঝামেলা হতে পারে, কারা তা পাকাতে পারে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তৈরি থাকতে চাইছে পুলিশ। একটাই বার্তা, যে দলই জিতুক, এলাকায় অশান্তি চলবে না। চললে রেয়াত করা হবে না। জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘কমিশন ভোট-পরবর্তী হিংসা রোখার ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া মনোভাব নিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট পার হলেও সে ব্যাপারে নির্দেশ আসবে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।’’
মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বোলপুর) মানবেন্দ্র দাস দুবরাজপুর থানায় এসে ভোট-পরবর্তী হিংসা রোখার বিষয়ে একটি বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুর-সহ বেশ কয়েকটি থানার ওসি, আইসি, সিআই এবং ডেপুটি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকেরা। জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা ভোটের পরিস্থিতি যাতে এ বার না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা থাকবে প্রতিটি থানা এলাকায়।
রামপুরহাট মহকুমার বিভিন্ন থানা থেকে সমস্ত রাজনৈতিক দল নিয়ে সর্বদল বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। প্রত্যেক গ্রামে গ্রামীণ পুলিশ কর্মীদের নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছে পুলিশ। এলাকা চিহ্নিত করে সেই সমস্ত জায়গায় বিশেষ নজরদারির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সতর্কতা হিসাবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে টহলও চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ১মে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট থানায় সর্বদল বৈঠকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
গত বিধানসভা ভোেটর পর হিংসার বহু অভিযোগ উঠেছিল বীরভূমে। বিশেষ করে বোলপুর, নানুর, লাভপুর, পাড়ুই, ইলামবাজার, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া প্রভৃতি এলাকায় সব থেকে বেশি বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠে। হাই কোর্টের নির্দেশে সিবিআই বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্ত করেছে। এ বারও বেশ কিছু এলাকায় ভোটের ফল প্রকাশের পর অশান্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সেই দিকগুলিতে নজরদিতে চাইছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে