সার দিয়ে দাঁড়িয়ে। সোমবার পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে। নিজস্ব চিত্র
এত দিন ভরসা ছিল শুধু দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস। সোমবার থেকে পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন রুটে বেসরকারিও বাস নেমেছিল। তবে যাত্রী প্রায় ছিলই না।
পুরুলিয়া জেলার ৪৮টি রুটের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে বাস চলেছে এ দিন। জেলা বাসমালিক সমিতির সম্পাদক প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা সমস্ত মালিককে বাস চালাতে বলেছি। দরকারি মেরামতি করে, কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগছে। পথে বাসের সংখ্যা একটু-একটু করে বাড়ছেও। তবে যাত্রী হচ্ছে না। এ ভাবে কত দিন চালানো যাবে জানি না!’’ বাঁকুড়া জেলা বাসমালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলায় প্রায় ৪৫০টি বাস চলে। তার প্রায় ১০ শতাংশ সোমবার পথে নেমেছিল। তিনি বলেন, “কোনও বাসেই যাত্রী তেমন ছিল না। এমনই অবস্থা, বাস চালিয়ে কর্মীদের মাইনের টাকাও উসুল হয়নি। তবে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেই আমরা আশাবাদী। তাই পরিষেবা জারি থাকবে।”
পুরুলিয়া জেলা বাসমালিক সমিতি সূত্রে জানানো হয়েছে, ভিন্ জেলা থেকে আসা ও জেলার মধ্যে চলা বাসের সংখ্যা প্রায় ২২৫টি। এ দিন চলেছে ১৮০টি। পুরুলিয়া থেকে কলকাতাগামী দূরপাল্লার বেসরকারি বাস চলে পাঁচটি। এ দিন সমস্ত চলেছে। এত দিন পুরুলিয়ার বিভিন্ন রুটে আটটি সরকারি বাস চলছিল। এ দিন পথে নেমেছিল আরও একটি। কিন্তু কোনওটিতে যাত্রী ছিলেন পাঁচ জন। জয়পুর থেকে ঝালদায় যাওয়া শিক্ষা দফতরের কর্মী সনৎ দত্ত জানান, যে বাসে তিনি অফিসে গিয়েছেন তাতে মোট যাত্রী ছিলেন তিন জন। রঘুনাথপুর শহরের অটো স্ট্যান্ডে গোটা দশেক অটো দাঁড়িয়েছিল। অটো চালক প্রসাদ কর্মকার বলেন, ‘‘গোটা দিনে দু’-তিন জন যাত্রী পেয়েছি।”
কম সংখ্যক কর্মী নিয়ে বেসরকারি সংস্থার অফিসগুলি আগেই খুলেছে। তাই নিত্যযাত্রীদের অনেকেই যাতায়াত শুরু করেছেন। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রুটের নিত্যযাত্রী বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী বলেন, “এসবিএসটিসি-র বাসেই গত কয়েকদিন ধরে যাতায়াত করেছি। আজ কিছু বেসরকারি বাসও চলছে।” এ দিন বেসরকারি বাস চলেছে বাঁকুড়া-তারকেশ্বর, বাঁকুড়া-দুর্গাপুর, বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া-রানিগঞ্জ, বাঁকুড়া-খাতড়া, বাঁকুড়া-সোনামুখী ও বাঁকুড়া-পুরুলিয়া রুটে। কিন্তু কোনও রুটেই বিশেষ যাত্রী হয়নি। বাঁকুড়ার গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ডে সার দিয়ে দাঁড়িয়েছিল বাস। পুরুলিয়ার গোবিন্দ দাস বলেন, “বাঁকুড়া মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় একটি বেসরকারি বাস পেয়েছিলাম। এখন ফিরছি।’’
পুরুলিয়াতে গত কয়েকদিনে ৬২ জন করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। রবিবার পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মোট ১১৫ জন। কয়েকজন বাস মালিকের মতে, সংক্রমণের আতঙ্কেই বাসে চাপতে চাইছেন না অনেক যাত্রী। অনেকটা দূরে অফিস হলেও প্রচুর সরকারি কর্মী এ দিন বাস এড়িয়ে চলেছেন। কেউ নিজের মোটরবাইকে গিয়েছেন। কেউ আরও কয়েকজনের সঙ্গে গাড়ি ভাড়া করে নিয়েছেন। বলরামপুরের দঁড়দা পঞ্চায়েতের কর্মী অরূপ মণ্ডল থাকেন পুরুলিয়া শহরে। তিনি বলেন, ‘‘এত দিন বাস না থাকায় মোটরবাইকেই অফিসে যাচ্ছিলাম। আজ বাস চলছে ঠিকই। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বাসে চাপতে ঠিক ভরসা হয়নি।” ঝালদা পুরসভার কর্মী পিনাকী সেনগুপ্ত ও গৌতম গোস্বামী এক সঙ্গে মোটরবাইকে চেপে পুরুলিয়া থেকে অফিসে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, ‘‘সময়মতো বাস পাব কি না, স্থির নেই। তা ছাড়া, এই পরিস্থিতিতে বাসে চাপা কতটা নিরাপদ সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না।’’