প্রতীকী ছবি
করোনা রোগীর সন্ধানে এ বারে সন্দেহজনক রোগীদের টেস্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দফতর। রামপুরহাট জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে এ বারে সেই পদক্ষেপ করা শুরু হয়েছে। সেই মতো প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। সেই সঙ্গে রামপুরহাটের যে নার্সিংহোমে, জেলার কোভিড হাসপাতাল লেবেল ২ চালু করা হয়েছে সেখানে হাসপাতালে পরিকাঠামোগত উন্নতি করা হচ্ছে। শুরু করা হচ্ছে ডায়ালিসিস-সহ অন্যান্য পরিষেবা।
রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার এক আধিকারিক জানান, করোনা রোগী সন্দেহে সাধারণত দুই ধরনের টেস্ট করা হচ্ছে। তার মধ্যে র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করার জন্য কিট জেলাতে এসে পৌঁছলেও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে আপাতত টেস্ট বন্ধ আছে। স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী নির্দেশিকার অপেক্ষায় আছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে দুই দফায় শুক্রবার ও শনিবার, দু’দিনে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের ও রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার অধীন কর্মরত ল্যাব টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট শুরুর আগে করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের আরটিপিসিআর টেস্ট বেশি করে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে যাঁদের মধ্যে করোনা রোগের উপসর্গ তাঁদের তো বটেই, রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁদের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে কিছু মাপকাঠি শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে যাঁদের আগে স্বাস্থ্য দফতর টেস্ট করতে পারত না তাঁদেরও টেস্ট করার সুযোগ পাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। কোনও চিকিৎসক যদি মনে করেন কোনও রোগীর করোনা টেস্টিং বা কোভিড ১৯ টেস্টে করে নেওয়া উচিত তাঁদের ক্ষেত্রেও টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে বর্তমানে আরটিপিসিআর টেস্টের রিপোর্ট কলকাতার নাইসেড থেকে আসতে দেরি হচ্ছে। সেই কারণে মুর্শিদাবাদ জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে বীরভূম জেলাকে জুড়ে দিলে রিপোর্ট তাড়াতাড়ি পেতে সুবিধা হবে বলে জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা দাবি করেছেন।
রামপুরহাটে যে নার্সিংহোমে কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে, সেখানে পরিকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। ৫০ শয্যার ওই লেভেল ২ কোভিড হাসপাতালে ডায়ালিসিস চালু করার জন্য দুটি মেশিন বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া ডায়ালিসিস পদ্ধতি চালু করার জন্য নার্সিংহোমে জল সরবরাহ করার জন্য দুটি প্ল্যান্টেরও ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য দফতর। ডায়ালিসিস চালু করার জন্য দু’জন টেকনিশিয়ানও নিয়োগ করা হয়েছে।
এক আধিকারিক জানান, ‘‘জেলায় লেভেল ২ কোভিড হাসপাতালের জন্য সে সমস্ত পরিকাঠামো দরকার সেগুলি ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য ভবন থেকে পাওয়া যাচ্ছে। পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, ভেন্টিলেটর, বাইপ্যাপ যন্ত্র, ইনক্লুউশন পাম্প বসানো হয়েছে।’’