প্রতীকী ছবি।
বাঁকুড়া জেলার মেজিয়ায় কয়লা চুরির একটি মামলায় অনুপ মাজি ওরফে লালার আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করল বাঁকুড়া আদালত। শুক্রবার বাঁকুড়া আদালতে এ নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে সরকার পক্ষের আইনজীবী অরুণ চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০১৭ সালে মেজিয়ার কালিকাপুরের বাসিন্দা কালীদাস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পারিবারিক জমি থেকে অবৈধ ভাবে থেকে কয়লা চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে চলতি বছরের মে মাসে বাঁকুড়া আদালতে চার্জশিট পেশ করে মেজিয়া থানার পুলিশ। তদন্তে এই ঘটনায় লালার নাম উঠে আসে। সে মামলাতেই আগাম জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল লালার তরফে।
অরুণবাবু বলেন, “কয়লা চুরির এই মামলায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে মেজিয়া থানার পুলিশ। পুলিশের চার্জশিটে লালার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তাই তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করেছেন বিচারক।” মামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি লালার পক্ষের আইনজীবী অমিয় চক্রবর্তী।
অভিযোগকারী কালীদাসবাবুর ছেলে রামসেবক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০১৭ সালে মেজিয়া থানায় আমাদের জমি থেকে কয়লা চুরি করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ দায়ের করেন বাবা। তবে পুলিশি তদন্তে আমরা খুশি ছিলাম না। কলকাতা হাই কোর্টে যাই। তাতেও তদন্তে গতি আসেনি। গত বছর সিবিআই কয়লা চুরি নিয়ে বাঁকুড়ায় তদন্ত শুরু করার পরেই এই মামলায় পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ে। পুলিশ চার্জশিটও জমা দিয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতা শেষ পর্যন্ত থাকে কি না, সেটাই এখন দেখার।” তাঁর দাবি, “১৯৮৯ সাল থেকে অবৈধ কয়লা পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছি আমরা। এতে বাবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে সেই আশঙ্কায় জেলা পুলিশের তরফে আমাদের বিশেষ নিরাপত্তাও দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে অজ্ঞাত কারণে সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়।”
জেলা পুলিশের এক কর্তার দাবি, “ঘটনার তদন্ত ঠিক ভাবেই চলছে। ওই পরিবার বিশেষ নিরাপত্তার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করলে, আদালত সে আবেদন খারিজ করে দেয়।” যদিও রামসেবকবাবুর দাবি, “আদালত আমাদের বিশেষ নিরাপত্তার দাবি খারিজ করেনি। আমরা কতটা ঝুঁকিতে রয়েছি, তা জানাতে বলা হয়েছে আদালতের তরফে। শীঘ্রই জানানো হবে।”