—প্রতীকী ছবি।
‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে জেলবন্দিদের কাছেও পৌঁছে গেল প্রশাসন। সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা নিতে সিউড়ি সংশোধনাগারে বুধবার ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি নিয়ে শিবির করল বীরভূম জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা সংশোধনাগারে যান। সিউড়ির মহকুমাশাসক দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় জানান, সংশোধনাগারে ৫৪৭ জন বন্দির মধ্যে অনেকেই বিচারাধীন। বন্দিদের মধ্যে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির যে প্রকল্পগুলি আছে সেই প্রকল্পগুলি থেকে যাঁরা বঞ্চিত আছেন তাঁদের আবেদন করার জন্য ফর্ম দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র বিলি করার সময় ভালই সাড়া পাওয়া গিয়েছে। মূলত স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি । এদের মধ্যে ৭০ জনের আধার কার্ডের জেরক্স কপি পাওয়া গিয়েছে। মহকুমাশাসক বলেন, ‘‘ওঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আজ কালের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। বাকীদের ক্ষেত্রে বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হয়েছে। বাড়ির লোকদের মাধ্যমে আধার কার্ডের জেরক্স কপি আনিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হবে।’’
সিউড়ি মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে খাদ্যসাথী প্রকল্পের জন্য ২০ জন আবেদন জানিয়েছেন, একজন প্রতিবন্ধী শংসাপত্রের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) শ্বেতা আগরওয়াল জানান, মঙ্গলবার রামপুরহাট মহকুমা সংশোধনাগারে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বোলপুর মহকুমা সংশোধনাগারে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার রামপুরহাট মহকুমা সংশোধনাগারে ১৩৫ জন বন্দির মধ্যে ৫৫ জনের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের চাহিদা ছিল। ১০ জনের খাদ্যসাথী কার্ডের চাহিদা ছিল। ২ জনের প্রতিবন্ধী শংসাপত্রের চাহিদা ছিল। ২০ জনের জাতিগত শংসাপত্রের চাহিদা ছিল। তার মধ্যে তিন জনের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ওখানেই দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলির কাজ চলছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে তিন জন বন্দিকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে আধার কার্ডের জেরক্স আনিয়ে তথ্য নথিভুক্ত করিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী তিন ধাপ গুলিতে বাকীদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে প্রশাসন। এর আগে রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসনের মাধ্যমে ৫ জন বৃহন্নলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের জাতিগত শংসাপত্র প্রদানও করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনও করা হয়েছে। পুরসভার মাধ্যমে সকলের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি তথা বীরভূম জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে সকলের জন্য এই প্রকল্প ঘোষণা করেছেন জেলবন্দিদের দুয়ারে সরকার কর্মসূচির আওতায় এনে সেটা প্রমাণিত হল।’’