দুর্ঘটনায় মৃত চার

মৃত্যুর খবরে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিল সপরিবার। শোকের বাড়ি থেকে ফেরার পথে গাড়ি উলটে মৃত্যু হল সেই পরিবারেরই চারজনের।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৭ ০০:৩১
Share:

মৃত্যুর খবরে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছিল সপরিবার। শোকের বাড়ি থেকে ফেরার পথে গাড়ি উলটে মৃত্যু হল সেই পরিবারেরই চারজনের। সোমবার গভীর রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে বীরভূম সীমান্তে ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানার মলুটি গ্রাম লাগোয়া এলাকায়। মৃতরা প্রত্যেকেই বীরভূমের মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডামরা গ্রামের বাসিন্দা।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে বাবা ও মেয়ে আছেন। তাদের নাম বিমান লেট (৩৭) ও তাঁর মেয়ে তিথি (১০)। অন্য দু’জন হলেন বিমানবাবুর মা পার্বতীদেবী (৫৫) ও কাকিমা শিবানীদেবী (৪৫)। ঘটনায় গাড়ির চালক শ্রীমন্ত লেট-সহ বাকি পাঁচ জন যাত্রী গুরুতর জখম হন। তাদের মধ্যে চারজনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়েছে। অঞ্জলি লেট নামে এক মহিলা রামপুরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনায় আহত পিঙ্কি লেট নামে এক যুবতী বলেন, ‘‘রামপুরহাট থানার বালিয়া গ্রামে এক আত্মীয় মারা যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পরিবারের নয় সদস্য একটি গাড়িতে করে গিয়েছিলাম। রাত দশটা নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে মলুটি ঢোকার আগে আমাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে একটি সাঁকোয় সজোরে ধাক্কা মারে। যাত্রীদের নিয়ে তিনবার পালটি খেয়ে রাস্তার ধারে একটি গাছে আটকে যায়। এর পর কী হয়েছে জানা নাই।’’

Advertisement

রামপুরহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অঞ্জলি লেট বলেন, ‘‘আমি গাড়ির মাঝের সিটে বসেছিলাম। আচমকা একটা জোর ধাক্কা লাগার পর গাড়ি উলটে যায়। এর পর কিছু মনে নাই।’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, গভীর রাতে গ্রামের মাঠে গাড়ি উলটে যাওয়ার খবর পেয়ে মলুটি ও ঘটকপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত বিমানবাবু, পার্বতীদেবী ও শিবানীদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন তাঁরা। এলাকায় শিকারী পাড়া থানার পুলিশ পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি টিকে উদ্ধার করে। মৃতদেহ তিনটি দুমকা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। আহতদের রামপুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামপুরহাট হাসপাতালে রাত তিনটে নাগাদ তিথি মারা যায়।

রামপুরহাট হাসপাতাল সূত্রে খবর, গাড়ির চালক শ্রীমন্ত লেট মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিল। হাসপাতালে নিজের নাম ঠিকানাও গোপন রেখেছিল শ্রীমন্ত।

সোমবার গভীর রাতেই পরিবারের লোকজন বাইরে চিকিৎসার নাম করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে চলে যায়।

একই পরিবারের চারজন মারা যাওয়ার খবরে ডামরা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ সকালে দুমকা ছুটেছেন। একাংশ রামপুরহাট হাসপাতাল থেকে রেফার রোগীদের সঙ্গে বর্ধমান ছুটেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement