মেয়েরা ফুল ছুড়ল জাঠায়

শিল্প চেয়ে সিঙ্গুর শুরু হয়েছে সিপিএমের বিরাট পদযাত্রা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবিতে তালড্যাংরা থানার সাবড়াকোন গ্রাম থেকে রবিবার সকালে জাঠা শুরু করল সিপিএম

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৪
Share:

লক্ষ্য সিঙ্গুর-শালবনির মিছিল। বিষ্ণুপুরের

শিল্প চেয়ে সিঙ্গুর শুরু হয়েছে সিপিএমের বিরাট পদযাত্রা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবিতে তালড্যাংরা থানার সাবড়াকোন গ্রাম থেকে রবিবার সকালে জাঠা শুরু করল সিপিএম। আজ সোমবার ওই জাঠা সিঙ্গুর থেকে আসা পদযাত্রার সঙ্গে কামারপুকুরে যোগ দেবে।

Advertisement

এ দিন জাঠার পুরোভাগে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অমিয় পাত্র, বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া, তালড্যাংরার সিপিএম বিধায়ক মনোরঞ্জন পাত্র, দলের জেলা সম্পাদক অজিত পতি, কৃষক নেতা নকুল মাহাতো-সহ প্রায় শ’তিনেক পার্টি কর্মী। শিল্প চেয়ে সিঙ্গুর থেকে শুরু হওয়া শালবনি পর্যন্ত দলের মূল পদযাত্রায় যোগ দেবে এই জাঠা।

রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিষ্ণুপুর থানার বাঁকাদহ হয়ে বামুনবাঁধ গ্রামে পৌঁছয় জাঠা। অমিয়বাবু বলেন, ‘‘সোমবার সকালে জয়পুর থানার মাগুরা গ্রাম হয়ে জাঠা যাবে কোতুলপুর থানার জয়রামবাটি পর্যন্ত।

Advertisement

ওইদিন জাঠায় যোগ দেবেন সিটুর রাজ্য সম্পাদক শ্যামল চক্রবর্তী। মঙ্গলবার হুগলির কামারপুকুরে শালবনিগামী মূল পদযাত্রায় গিয়ে পা মেলাবেন আমাদের জাঠার সঙ্গে হাঁটা কর্মীরা।’’

এ দিন বিকেলে জাঠা পিয়ারডোবা হয়ে বাঁকাদহে পৌঁছতেই ভিড় বাড়তে শুরু করে দলীয় কর্মীদের। সেখানে জাঠায় এসে যোগ দেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ দে, বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা বাউরি, বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বিরোধী নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। শুধু বাঁকাদহ নয়, আশপাশের গ্রাম থেকেও জাঠায় এসে যোগ দেন বহু মানুষ। কলাবাগান গ্রামের কাছে জাঠা পৌঁছলে জল দিতে এগিয়ে আসেন গ্রামবাসী। মেয়েরা শাঁখ বাজিয়ে, ফুল ছুড়ে বরণও করেন বর্ষীয়ান নেতাদের। ঝামেলা এড়াতে জাঠার আশেপাশে পুলিশের নজরদারিও ছিল যথেষ্ট।

দিনের শেষে বকডহরা পেরিয়ে বামুনবাঁধ গ্রামে পৌঁছতেই দেখা যায় প্রায় হাজার দু’য়েক মানুষ সামিল হয়েছেন এই পদযাত্রায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বাঁকুড়ায় লোকসভা, পঞ্চায়েত ও পুর নির্বাচনে প্রায় জেলা থেকে মুছে গিয়েছে সিপিএম। এই অবস্থায় সামনে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ দিনের প্রায় ২০ কিলোমিটার পদযাত্রায় যে ভাবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহ দেখা গেল তাতে আপ্লুত হয়ে অমিয়বাবু অভিযোগ করেছেন, ‘‘শুধু এই সব এলাকাই নয়, সারা জেলায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূলের গুন্ডারা। সেই ভয় কাটিয়ে মানুষ এখনও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে একটাই কারণে— যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তা পূরণ হয়নি। রাজ্যে শিল্প আসেনি। বরং আমাদের সময়ে গড়ে ওঠা বহু কারখানা একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে বেকারত্ব। তাই কাজের দাবিতে, শিল্পের দাবিতে আমাদের ডাকা এই জাঠায় এত মানুষের সমারোহ।’’

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন রাতে বিশ্রামের পর সোমবার সকাল ৯টা থেকে জয়পুরের মাগুরা গ্রামে ফের এই জাঠায় হাঁটবেন দলের কর্মীরা। অমিয়বাবু জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনের পদযাত্রায় শ্যামলবাবু যোগ দেবেন মাগুরা গ্রাম থেকে। তাঁদের আশা আরও বহু মানুষ তাঁদের সঙ্গে পা মেলাবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement