বাস দুর্ঘটনায় বাদ পড়ল হাত

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার তালড্যাংরার রাধানগর গ্রাম থেকে দু’টি বাসে প্রায় আড়াইশো জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক সোনামুখী এসেছিলেন। তারই মধ্যে একটি ফেরার পথে উল্টে যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৭ ১৮:০০
Share:

বিষ্ণুপুরে: সভা ফেরত এই বাসটিই উল্টে যায়। নিজস্ব চিত্র।

সোনামুখীর সভা ফেরত বাস উল্টে মৃত্যু হয়েছিল এক জনের। বুধবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় জখম এক জনের হাত অস্ত্রোপচার করে কেটে বাদ দিতে হল।

Advertisement

সোনামুখীর ধনশিমলা গ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ের সভা থেকে ফেরার পথে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের একটি বাস বিষ্ণুপুর রেঞ্জ অফিসের সামনে জাতীয় সড়কের উপরে উল্টে যায়। নলিনীকান্ত নায়েক (৫৫) নামের এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়। এক শিশু-সহ মোট ৩৭ জন জখম হন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে বুধবার রাতেই বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠানো হয়। বাকিরা বিষ্ণুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাঁকুড়া মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাসের যাত্রী মধুমিতা নায়েকের বাঁ হাত কনুইয়ের নীচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মধুমিতার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পরিচারিকার কাজ করে তিন মেয়েকে বড় করছেন। তাঁর ছোট মেয়ে ওই দুর্ঘটনায় চোট পেয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার তালড্যাংরার রাধানগর গ্রাম থেকে দু’টি বাসে প্রায় আড়াইশো জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক সোনামুখী এসেছিলেন। তারই মধ্যে একটি ফেরার পথে উল্টে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবলু কালিন্দী, লক্ষ্মীকান্ত আহির, যোগেন দাসরা জানান, কাছে থাকা একটি বুলডোজার দিয়ে দুর্ঘটনার পরে বাসটিকে সোজা করা হয়। রাস্তা দিয়ে যাওয়া গাড়ি দাঁড় করিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাই আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই পুলিশ কর্মীরা পৌঁছন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখম যাত্রী তথা তালড্যাংরা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বীরেন রজক বলেন, ‘‘বাসে প্রায় ১২০ জন ছিলেন। সোনামুখীতে যানজটে আটকে বেরোতে বেরোতে ৭টা বেজে গিয়েছিল। সাড়ে ৯টায় বিরাইয়ে রাতের খাওয়া সেরে আবার রওনা দিই। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।’’ ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন যাত্রী বাসন্তী অধিকারী ও জবা দুলে জানান, তাঁরা চালকের পিছনে কেবিনে বসেছিলেন। তাঁদের দাবি, বিরাইয়ে খাওয়াদাওয়া সেরে বাসে উঠার পরে গন্ধে তাঁরা বুঝতে পারেন চালক নেশা করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর হাসপাতালে বাবা নলিনীকান্ত নায়েকের দেহ আঁকড়ে অঝোরে কাঁদছিলেন শুভেন্দু নায়েক। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামে সবার আপদে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ত বাবা। সংসারটা ভাসিয়ে চলে গেল।’’ ওই প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে। বুধবার রাতে আহতদের দেখতে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান শ্যাম মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য। হাসপাতালে যান মহকুমাশাসক (বিষ্ণুপুর) ময়ূরী ভাসু। বাঁকুড়া থেকে চলে আসেন জেলা সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও খালাসি পলাতক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement