প্রতীকী চিত্র।
এলাকায় ‘অশান্তি’ ছড়ানোর একাধিক অভিযোগ আগেও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ বার সরাসরি দুবরাজপুরের পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মুকুল মণ্ডলের পদত্যাগ দাবি করলেন আদিবাসী অধ্যুষিত একটি গ্রামের বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার এক যুবককে মারধর করে জখম করার প্রতিবাদে গ্রামের আদিবাসী পাড়ার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, কোথায় কে বেরোবে কোথায় কে বসবে সবই ওই নেতার ইচ্ছা মাফিক করতে হচ্ছে। না হলেই অশান্তি। ওঁর লোকজন পায়ে পা দিয়ে গণ্ডগোল বাধাচ্ছে বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবারও স্থানীয় একটি হার্ডওয়্যার দোকানে তেমনই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। বাড়ি ফেরার সময় ঝামেলার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় তুহিন মুর্মু নামে এক ট্রাক্টর চালককে মুকুলের লোকজন বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। তিনি এখন সিউড়ি হাসপাতলে চিকিৎসাধীন। এ দিন ক্ষোভে পথে নামেন তুহিনের পাড়ার লোকজন। তাঁদের অভিযোগ, সবই হয়েছে ওই নেতার ইশারায়। তাঁদের দাবি, ‘‘আমরাও শাসক দল করি কিন্তু এমন নেতা চাই না।’’
এ দিন তৃণমূলের পতাকা নিয়েই অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া পোস্টার নিয়ে মিছিলও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মারধরে যুক্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া সকলেই শাসক দলের কর্মী-সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত। এই ঘটনার জেরে অস্বস্তিতে শাসক দল। মুকুল নিজে অবশ্য বলেন, ‘‘ওই বুথে মাত্র ৭৫টি ভোট পেয়েছি আমরা। সবটাই বিজেপির সাজানো নাটক। কেউ তৃণমূল করেন না। আমার অপসারণ চাইবে কেন?’’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে ও পরে ওই এলাকায় হিংসার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, তার নেপথ্যে রয়েছে ওই এলাকায় বিজেপির মাথা তোলা। প্রতিবারই অশান্তি পাকানোর ‘নেপথ্য কারিগর’ হিসাবে মুকুল মণ্ডলের উস্কানির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। বিজেপির দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর অত্যাচার আরও বেড়েছে। কারণ যে অঞ্চলে একসময় শাসক দল তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ভোটে এগিয়ে থাকত, গত বিধানসভা নির্বাচনে সেই এলাকায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়েছে শাসকদল। তারপর থেকেই অশান্তি অব্যাহত। তবে মারধরের ঘটনায় রাজনীতির যোগ নেই বলে দাবি মুকুলের। তিনি বলেন, ‘‘ওটা মদ্যপ অবস্থায় মারপিটের ঘটনা। আমাদের দলের কেউ যুক্ত থাকলে শাস্তি পাবে।’’ তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখেছি। কেউ রেহাই পাবে না।’’