Elephant Death by Accident

সমন্বয়ের অভাবেই কি দুর্ঘটনা, প্রশ্নে বন দফতর

সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে রেলে কাটা পড়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় রেল ও রাজ্যের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। রাজ্য বনদফতরের সাথে রেল যোগাযোগ রাখছে না বলেও অভিযোগ ওঠে।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ অধিকারী

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:১৮
Share:

রাউৎখণ্ডে পাড়ায় পাড়ায় দাপাল হাতি। পরে কলাবনি গ্রামে ঘুমপাড়ানি গুলিতে বাগে আনা হয়। ছবি: শুভ্র মিত্র

বিষ্ণুপুরে অতীতে ট্রেনে হাতি কাটা পড়ায় রেল তথা কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয়ের অভাব সামনে এসেছে। পড়শি ঝাড়খণ্ড থেকে সম্প্রতি হাতি ঢুকে পড়ে ঝালদায় এক জনকে মারার ঘটনাতেও দু’রাজ্যের বন দফতরের সমন্বয়ের অভাব সামনে এসেছে। এ বার জয়পুরে বুধবারের হাতির তাণ্ডবের ঘটনায় বাঁকুড়া জেলারই দুই বনবিভাগ— বাঁকুড়া উত্তর ও বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত ডিভিশনের মধ্যে অতীতে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএফও (বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত) অভিজিৎ কর বলেন, “এই হাতিটির আসা নিয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর ছিল না। বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের তরফেও কিছু জানানো হয়নি।” জয়পুরের এক বনাধিকারিক জানান, আগাম খবর থাকলে হাতিটিকে তাঁরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন।

সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে রেলে কাটা পড়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনায় রেল ও রাজ্যের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। রাজ্য বনদফতরের সাথে রেল যোগাযোগ রাখছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। গত ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে ঝড়খণ্ড থেকে হাতি পুরুলিয়ার আযোধ্যা পাহাড়তলির বনাঞ্চলে ঢুকে মানুষ মেরে দেয়। কিন্তু একই জেলার বন দফতরের ডিভিশনগুলির মধ্যে কেন সমন্বয়ের অভাব থাকবে?

রাজ্যের মধ্যে অন্যতম হাতি উপদ্রুত জেলা বাঁকুড়ার তিনটি (বাঁকুড়া উত্তর, বাঁকুড়া দক্ষিণ ও বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত) বনবিভাগের মধ্যে সমন্বয় সুদৃঢ় করতে বার বার জোর দিয়েছে রাজ্য বন দফতর। এ নিয়ে জেলায় নানা সময়ে বনকর্তাদের নিয়ে বৈঠকও হয়। তারপরেও এমন অভিযোগ উঠেছে কেন?ডিএফও (বাঁকুড়া উত্তর) শেখ ফারিদের দাবি, “এটি একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা। এ জন্য সমন্বয়নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণই নেই। জেলার প্রতিটি বনবিভাগের কর্মীদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।”

তাহলে এক্ষেত্রে সমস্যা হল কেন? জেলার বনকর্মীদের দাবি, নিচুতলায় বিভিন্ন রেঞ্জ ও বনবিভাগের মধ্যে দ্রুত খবরের আদান-প্রদানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেন হুলাকর্মীরা। তারপরে রেঞ্জ দফতর। প্রতিটি রেঞ্জের হুলাকর্মীদের কাছে অন্য রেঞ্জের হুলাকর্মীদের মোবাইল নম্বর রয়েছে। হাতি এক রেঞ্জ থেকে অন্য রেঞ্জে গেলে হুলাকর্মীরাই নিজেদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে দেন।

মঙ্গলবার রাতে সোনামুখী রেঞ্জ থেকে হাতিটি বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের পাত্রসায়র হয়ে জয়পুরে যায় বলে অনুমান। তবে পাত্রসায়রের রেঞ্জ দফতর বা সংশ্লিষ্ট এলাকার হুলাকর্মীরা তা মানেননি। পাত্রসায়র রেঞ্জের এক বনাধিকারিকের দাবি, ‘‘হাতিটির পায়ের ছাপ এলাকার কোথাও পাইনি।” সোনামুখীর হুলাকর্মীদের একাংশ জানান, জয়পুরে তাণ্ডব চালানো হাতিটির উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট। আকৃতিগত ভাবে ছোট হওয়ায় হাতিটিকে জঙ্গলের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায় না। এক হুলাকর্মী বলেন, “হুলাকর্মীদের নজর এড়িয়েই ওই হাতিটি বেরিয়ে গিয়েছে বলে সমস্যা হয়েছে। না হলে যে কোনও হাতির গতিবিধি অন্য রেঞ্জের হুলাকর্মীদের আমরা ফোনে জানিয়ে দিই।”বন দফতরের একটি সূত্রে দাবি, জেলায় দলগত হাতি ঘোরাফেরা করলে হুলাকর্মীদের যে সক্রিয়তা থাকে, দল বেরিয়ে গেলে তা কিছুটা কমে যায়। তাতেও একাকী হাতির উপরে নজরদারিতে কিছুটা ফাঁক হয়ে যায়।

ডিএফও (উত্তর) বলেন, “হাতিগুলির উপরে সব সময়ই নজরদারি চলে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হাতিগুলি নজরের বাইরে বেরিয়ে যেতেই পারে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই ফের হাতিটিকে খুঁজে নেওয়া হয়।” নজরদারিতে কোথাও কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবি তাঁর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন