প্রতীকী ছবি।
কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে। নেতা কর্মীদের মধ্যে আলোচনায় ঘোরাফেরা করছে একাধিক নাম। তার মধ্যে যেমন পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে অন্যদল থেকে বিজেপিতে আসা নেতা রয়েছেন। আছেন পঞ্চায়েতে নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া পুরনো নেতাও। তবে বিজেপি চাইছে, জল্পনার আঁচে হাওয়া না দিয়ে ভোটের আগে দলের সংগঠন গুছিয়ে নিতে। এর জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে দল সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলার ৩০৫টি শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ সম্মেলন করার পরে এ বার জেলার ন’টি বিধানসভাতেই বুথ সভাপতি সম্মেলন শুরু করেছে বিজেপি। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই সম্মেলন। এ দিন মানবাজার বিধানসভা এলাকার বুথের সভাপতি, মণ্ডলর সভাপতি ও শাখা সংগঠনগুলির নেতাদের নিয়ে বসা হয়েছিল। দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী জানান, ১৮ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত জেলার ন’টি বিধানসভাতেই এমন সম্মেলন চলবে। তার মাঝে দোলের দু’দিন গেরুয়া আবির নিয়ে মিছিল হবে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। ২৬ মার্চ হবে লোকসভার জনসভা। সাম্ভাব্য জায়গা হিসাবে জয়পুর, বলরামপুর এবং বাঘমুণ্ডির কথা শোনা যাচ্ছে। দল সূত্রে খবর, সেখানে থাকার কথা কেন্দ্র বা রাজ্য নেতৃত্বের।
গত লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়াতে ৮২ হাজারের কাছাকাছি, অর্থাৎ ছ’শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভায় সেই ভাবে জেলায় দাগ কাটতে পারেনি তারা। এ বার পরিস্থিতির আমূল বদলেছে বলে নেতারা দাবি করছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলায় ভাল ফল করার পরে পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রটিকে কার্যত পাখির চোখ করে মাঠে নেমেছে বিজেপি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৬ শতাংশ ভোট তাদের পক্ষে এসেছে বলে দাবি বিজেপির জেলা নেতৃত্বের। সেই হিসাবে তাঁরা দাবি করছেন, চার বছরে তিরিশ শতাংশ ভোট বেড়েছে। দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আরও বেশি ভোট পেতাম আমরা। পঞ্চায়েতে অনেক বুথে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সন্ত্রাস করায় মানুষ ভোট দিতেই যেতে পারেননি। লোকসভায় পরিস্থিতি অন্য রকমের। এ বার কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। পুরুলিয়ায় আমরা লক্ষাধিক ভোটে জিতব।”
যদিও ইতিমধ্যেই তৃণমূল ও বামফ্রন্ট পুরুলিয়ায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিলেও, বিজেপির হয়ে ভোটে কে দাঁড়াচ্ছেন সেটা এখনও জানেন না নেতাকর্মীরা। সেই দিক দিয়ে প্রচারে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির।
তবে বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগরবাবুর দাবি, প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে তাঁরা আদৌও চিন্তিত নন। সোমবার তিনি বলেন, ‘‘যেই প্রার্থী হোন না কেন, তাঁকে জেতাতে পুরো সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামবে।’’
তিনি জানান, নিচুতলার নেতা-কর্মীদের আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বিধানসভাভিত্তিক বুথ সভাপতিদের নিয়ে সম্মেলন শুরু হয়েছে। এ বারে বুথ সভাপতি, বিধানসভার মণ্ডলগুলির সভাপতি ও শাখা সংগঠনগুলিকে নিয়ে নির্বাচনের প্রচার ও রণকৌশল স্থির করার কাজে হাত দিয়েছে দল।
দলের এক নেতার বক্তব্য, ‘‘নির্বাচনে ভোটারদের কাছে গিয়ে প্রচার করাই একমাত্র বিষয় নয়। নির্বাচনের দিনে নিজেদের পক্ষের ভোটারদের বুথে এনে ভোট দেওয়াটা নিশ্চিত করাটা জরুরি। তাই ওই সমস্ত কাজে বুথের নেতা কর্মীদের কী করতে হবে সেটাই এখন থেকে বুঝিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে।”
তবে বিজেপির কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি রথীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের ফল ধরলে আমরা পুরুলিয়ায় বিজেপির থেকে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছি। ফলে বিজেপির কর্মসূচি নিয়ে আমরা আদৌও চিন্তিত নই।’’
তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের এখন লক্ষ্য, গত বারের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে মৃগাঙ্ক মাহাতোকে ফের সংসদে পাঠানো।”