—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভোটের আগে বাড়ি ফিরতে হবে তাঁদের। কিন্তু তাঁদের ভোট দেওয়া এখনও অনিশ্চিত। তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক। রুজির টানে রাজ্যের বাইরে থাকেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বহুজনের নাম বাদ পড়েছে। এখন তাঁরা কর্মস্থল থেকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ট্রাইবুনালে আবেদনের জন্য চড়া দামে দালাল মারমত ট্রেনের টিকিট কেটে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রামপুরহাট থানার বনহাট পঞ্চায়েতের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা কিরণ শেখ, দানেশ শেখ, সাগর শেখ মুম্বইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এসআইআরে গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য তাঁদের আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের নো ম্যাপিংয়ের জন্য শুনানিতে ডাক পড়ে। তখন রামপুরহাট ১ ব্লকে হাজিরা দেওয়ার পরে তাঁরা ফের কাজের জায়গায় চলে যান। কিরণ বলেন, “আমরা ভোটের সময় বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু মার্চের শেষের অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে জানতে পারি আমাদের নাম বাদ গিয়েছে। তারপর থেকেই ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিট কাটার চেষ্টা চালাচ্ছি। টিকিট পাচ্ছি না। ৯০০ টাকার টিকিট দালালদের কাছ থেকে ৩,২০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। ১৬ এপ্রিল মুম্বই-হাওড়া গীতাঞ্জলী এক্সপ্রেসে ফিরব। তবে ভোট দিতে পারব কি না জানি না।”
বনহাট গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূলের রামপুরহাট ১ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম (সঞ্জয়) বলেন, “রামপুরহাট বিধানসভার অধীন ১৭৫ পার্টে ৪০৫ জন বিবেচনাধীন ছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের মধ্যে ২৯২জনের নাম বাদ গিয়েছে। এঁদের বেশির ভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। এঁরা বাড়ি ফিরলেও ভোট দিতে পারবেন কিনা জানা নেই। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দিয়েছি। তবে এ ভাবে বৈধ ভোটারদের হয়রানি মেনে নেওয়া যায় না।”
কিরণ শেখদের মতো মাড়গ্রামের তপন গ্রামের রাসেল শেখ, রামপুরহাট থানার সৈপুরে পিঙ্কি বিবির মতো পরিযায়ী শ্রমিকেরা ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ায় ট্রাইবুনালে আবেদন করেও শঙ্কিত। অথচ বিপুল অর্থ খরচ করে বাড়ি ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে