Migrant Labours Beaten

এ বার ছত্তীসগঢ়ে ‘বাংলাদেশি’ বলে মার পুরুলিয়ার শ্রমিকদের! রাঁচীর বাসে বাড়ি পাঠাল সে রাজ্যের পুলিশ

কয়েক মাস আগে পুরুলিয়ার মফস্‌সল থানার চেপরি গ্রাম থেকে ছ’জন এবং আরশা থানার ভূর্ষা গ্রামের দুই পরিযায়ী শ্রমিক ছত্তীসগঢ়ে গিয়েছিলেন। সুরজপুর থানা এলাকার একটি বেকারিতে কাজ করতেন তাঁরা। সোমবার সকালে তাঁদের তিন জনকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৬
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ওড়িশা, বিহারের মতো আর এক বিজেপিশাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ! সোমবার ছত্তীসগঢ়ের সুরজপুর এলাকার একটি বেকারিতে কাজ করতে যাওয়া পুরুলিয়ার আট পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের দাবি, বাংলায় কথা বলায় তাঁদের বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করা হয়েছে।

Advertisement

কয়েক মাস আগে পুরুলিয়ার মফস্‌সল থানার চেপরি গ্রাম থেকে ছ’জন এবং আরশা থানার ভূর্ষা গ্রামের দুই পরিযায়ী শ্রমিক ছত্তীসগঢ়ে গিয়েছিলেন। সুরজপুর থানা এলাকার একটি বেকারিতে কাজ করতেন তাঁরা। সোমবার সকালে তাঁদের তিন জনকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বাকি পাঁচ জন ছুটি চেয়ে মালিকের আবেদন করেন। তাঁরা জানান, বকেয়া পারিশ্রমিক নেওয়ার জন্য তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেছিলেন মালিক। তাঁরা তা-ই করেন। কিন্তু বিকেলে হঠাৎই বিনা প্ররোচনায় তাঁদের উপর চড়াও হন একদল লোক। অভিযোগ, পুরুলিয়ার ওই শ্রমিকদের নাম-পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। নাম-পরিচয় বললে ভোটার এবং আধার কার্ড দেখাতে বলা হয়। সেটাও করেন পাঁচ জন। কিন্তু তাতেও ‘খুশি’ হতে পারেননি আক্রমণকারীরা। ‘বাংলাদেশি’ বলে শুরু হয় মারধর।

আট বাঙালি শ্রমিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ। পরিযায়ী শ্রমিকেরা জানান, পুলিশই তাঁদের রাঁচীর একটি বাসে তুলে দেয়। মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়ায় নিজেদের গ্রামে পৌঁছেছেন চার জন। কিন্তু বাকি চার জন এখনও বাড়ি ফেরেনি। তাদের পরিবার সূত্রে খবর, ওই চার জনই নাবালক।

Advertisement

চেপরি গ্রামের বাসিন্দা শেখ আসলাম নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, ‘‘আমরা ওখানে (ছত্তীসগঢ়ে) নিজেদের মধ্যে বাংলাতেই কথা বলতাম। সোমবারও তা-ই করছিলাম। তখনই কয়েক জন আমাদের পরিচয় জানতে চায়। তাদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিলাম। তার পরেও রেহাই মেলেনি। আমাদের বাংলাদেশি বসে বেধড়ক মারধর করেছে।’’ একই কথা বলছেন শেখ বেবি। ওই পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, ‘‘আমরা আর বাইরের রাজ্যে কাজে যেতে চাই না। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ, আমাদের এখানেই কোনও কাজ দিন। নাহলে এমন পরিচয়পত্র দিন যাতে বাংলাদেশি বলে অন্য রাজ্যে গিয়ে মার না খেতে হয়।’’

বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজ্য পুলিশ। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, ‘‘সোমবার দুপুরে খবর পাওয়ার পরেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে ছত্তীশগঢ় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আমি নিজে সুরজপুর জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলি। ওই আট জন পরিযায়ী শ্রমিকের পরিচয় যাচাই করে ছত্তীসগঢ়ে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। পরে চার জন শ্রমিককে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আরও চার জন নাবালক হওয়ায় এখনও তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আশা করছি, তাদের দ্রুত বাড়ি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement