SIR in West Bengal

২০০২ সালের আগের কোনও নথি নেই! শুনানি-নোটিসে আতঙ্কিত বৃদ্ধা, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বাঁকুড়ায়

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের লোদারঘাট গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বিবি (৬৫)। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে গ্রামে মেয়ে-জামাইয়ের কাছে থাকতেন। ২ জানুয়ারি তাঁকে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৮
Share:

বিষ্ণুপুরে এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর বৃদ্ধার মৃত্যু। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নিজের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড থাকলেও ২০০২ সালের আগের কোনও নথি তাঁর কাছে ছিল না। নাম ছিল না ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও। ফলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য বৃদ্ধা শুনানিতে ডাক পান। তার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন। বুধবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর আতঙ্কেই এই মৃত্যু।

Advertisement

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের লোদারঘাট গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বিবি (৬৫)। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে গ্রামে মেয়ে-জামাইয়ের কাছে থাকতেন। ২ জানুয়ারি তাঁকে শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, শুনানি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধা। কারণ তাঁর কাছে কোনও নথি ছিল না। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে বার বার ছুটে গিয়েছিলেন। নথি বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। সুরাহা হয়নি। বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের কন্যা মমতাজ বলেন, ‘‘মাকে শুনানির জন্য ডেকেছিল। কিন্তু মায়ের কাছে কাগজ ছিল না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে মা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।’’ স্থানীয় তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হবিবুর কাজী বলেন, ‘‘নথিপত্রের জন্য বৃদ্ধা একাধিক বার আমার কাছে এসেছিলেন। আমি নিশ্চিন্তে থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু নথির চিন্তাতেই মারা গেলেন।’’ বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত অগস্তি বলেন, ‘‘যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু তা নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। এসআইআর-এ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাবে। এখন তাই হারের আতঙ্কে ভুগছে তৃণমূল। তাই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলেও এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু বলে দেগে দিচ্ছে।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement