Yuva Sathi

যুব সাথী প্রকল্পে নাম লেখাচ্ছেন বিরোধী নেতারাও

বিষ্ণুপুরের রামশঙ্কর মুক্ত মঞ্চের শিবিরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যুবক-যুবতীদের ভিড় উপচে পড়েছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র তুলে জমা দেন বিজেপির যুব মোর্চার বিষ্ণুপুর বিধানসভার আহ্বায়ক অমলেন্দুবিকাশ পাল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৬
Share:

বিষ্ণুপুরে শিবিরে বিজেপির যুব নেতা। ছবি: অভিজিৎ অধিকারী।

ভোটের মুখে তৃণমূল সরকারের চালু করা ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। অথচ ওই প্রকল্পের সুবিধা পেতে রবিবার প্রথম দিনের সরকারি শিবিরেই বিজেপি ও বাম নেতা-কর্মীদের লাইনে দেখা গেল। অন্য দিকে, শিবিরের কাছে ‘সহায়তা কেন্দ্র’ খুলে তৃণমূল নেতারা ‘যুব সাথী’র আবেদনপত্র বিলি করায় তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি উদ্যোগকে নিয়ে ভোটের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এ দিনের শিবিরগুলিতে ভিড় করা মানুষজনের মধ্যে ৯০ শতাংশ কেবল যুব সাথীর জন্যই আবেদন করেছেন।

বিষ্ণুপুরের রামশঙ্কর মুক্ত মঞ্চের শিবিরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যুবক-যুবতীদের ভিড় উপচে পড়েছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র তুলে জমা দেন বিজেপির যুব মোর্চার বিষ্ণুপুর বিধানসভার আহ্বায়ক অমলেন্দুবিকাশ পাল, সিপিআই (এমএল)-র জেলা কমিটির সদস্য বিল্টু ক্ষেত্রপালেরা। অমলেন্দু বলেন, “রাজ্য সরকারের প্রকল্প হলেও এটা আমাদের অধিকার বলেই মনে করি। তাই আবেদনপত্র জমা করেছি। তবে মনে রাখতে হবে শুধু ভাতা দিলেই হবে না, চাকরিও চাই।” বিল্টুও বলেন, “রাজ্যের এই প্রকল্প ভাল। তবে ভাতা পাওয়া বেকারদের স্থায়ী সমাধান নয়।”

অনেক মহিলা সন্তান কোলে এসেছিলেন। গরমের মধ্যেও তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কৃষ্ণগঞ্জের বধূ রীতা বাউরি বলেন, “বয়স কম হওয়ায় এখনও লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাই না। মাধ্যমিক পাস করেছি, তাই যুবসাথীতে আবেদন করছি।” অনেক কলেজ পড়ুয়া ও কলেজ উত্তীর্ণ যুবক-যুবতী জানান, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই প্রকল্পের অর্থ সহায়ক হবে। বাঁকুড়ার এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হলের শিবিরে আসা তমাল পাত্র, সৌমেন সেন, কুন্তক চক্রবর্তী জানান, সরকারি ভাতা পেলে তাঁদের কিছুটা সুরাহা হবে। পুরুলিয়ার বলরামপুরের শিবিরে বাঘাডি গ্রামের বিভীষণ কুমার, তেঁতলো গ্রামের ভবতারণ কুমার বলেন, ‘‘চাকরির নিশ্চয়তা নেই। তাই শিবিরে এসে ফর্ম তুললাম।’’

বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর, ওন্দা, বাঁকুড়া ১, ২, হিড়বাঁধ, খাতড়ায় ব্লকের মতো তৃণমূলের সহায়তা কেন্দ্র দেখা গিয়েছে। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “সরকারি শিবিরের অদুরেই তৃণমূল সহায়তা কেন্দ্র খুলে ফর্ম বিলি করছে। রাজ্যের মানুষের অর্থে সরকারি প্রকল্পগুলিকে চালানো হবে। অথচ তৃণমূল এমন দেখাচ্ছে যেন দলীয় তহবিল থেকে সাহায্য দান করা হচ্ছে।’’ পাল্টা রাজ্যের খাদ্যপ্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, “আসলে সাধারণ মানুষ সুবিধা পেলে বিজেপির সহ্য হয় না। আমরা মানুষকে সাহায্য করছি। কিন্তু ওদের কোনওদিনই মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।” বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ যুব দফতরের পোর্টাল (https://sportsandyouth.wb.gov.in) থেকেও যুবসাথীর আবেদনপত্র ‘ডাউনলোড’ করতে পারেন। তবে শিবিরের মধ্যে কোথাও কোনও রাজনৈতিক দলের সহায়তাকেন্দ্র ছিল না।

বাঁকুড়া ২ ব্লকে খেতমজুর সহায়তা প্রকল্পের আবেদনপত্র নিতে আসেন অনঙ্গ মাইতি। তিনি বলেন, ‘‘চাষজমিতে কাজ কমেছে। এই প্রকল্পে সরকারি অনুদান আরও একটু বাড়ানো দরকার।’’ বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) মনজিৎকুমার যাদব বলেন, ‘‘প্রথম দিনই জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ শিবিরে এসেছিলেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে মূল শিবরের পাশাপাশি কিছু মোবাইল শিবিরও চালু করা হয়েছে।’’ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, শিবিরে পর্যাপ্ত জল, বসার জায়গা রয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত গতিতে যাতে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়, সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন